‘বিশ্বাস তো সেইদিনই উঠে গেছে, যেদিন দেখি কয়েলের ওপর মশা’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন সহজেই পরিচিতিটা পাওয়া যায়। সম্প্রতি ফেসবুকের কল্যাণে সেলিব্রেটি হয়ে উঠেছে মশা। যেন তেন মশা নয়, জ্বলন্ত কয়েলের ওপর বসে থাকা মশা! আর সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ছে নেটিজেনদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার হ্যান্ডেলে। নানা রকম প্রতিক্রিয়ায় ভ’রে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

রাজধানী ঢাকায় অতি সম্প্রতি মশার উৎপাত বেড়েছে। শুধু বেড়েছে বললে ভুল হবে কোথাও কোথাও এর উৎপাতে টিকে থাকা দায়। মশা থেকে পরিত্রাণের জন্য কয়েল ব্যবহৃত একটি বস্তু। বহু আগে থেকে এর ব্যবহার উপমহাদেশে হয়ে আসছে।

এক সময় মশায় নিরোধক কয়েলে ডিডিটি ও এন্ড্রিন নামের অনেক ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহৃত হতো। সেটা বহু আগের কথা। ধীরে ধীরে কয়েলে বিষাক্ত উপাদান কমিয়ে এনে মশাকে দমনের উপযোগী করা হয়েছে। কয়েলের বিকল্প অনেক কিছু আবিস্কার হয়েছে কিন্তু কয়েল সেই নিজের স্থানেই সমুজ্জ্বল।

কিন্তু এই কয়েলের ওপরেই যদি মশা বসে? তাহলে আর বিশ্বাস কোথায় রাখবেন? তাই স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকের আলোচনায় মশা এখন গরম গরম আলোচ্য বিষয়। গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, ‘হায় রে কপাল, মশা মারার জন্য কয়েল নিয়ে আসলাম, এখন দেখি মশাই কয়েলের ওপর বসে আছে!’

ঠিক এক বছরের মাথায় ওই স্ট্যাটাসটিই এখন ফেসবুকে ভাসছে। কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘বিশ্বাস’ শব্দটি। যেমন একজন লিখেছেন, ‘বিশ্বাস তো সেইদিনই উঠে গেছে, যেদিন দেখি কয়েলের ওপর মশা বসে আছে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘বিশ্বাস শব্দটির উপর থেকে সেদিনই বিশ্বাস উঠে গেছে, যেদিন দেখলাম জলন্ত কয়েলের ওপর মশা বসে আছে।’

‘বিশ্বাস’ ও ‘মশা’ নিয়ে প্রায় একই রকম স্ট্যাটাস দেয়ার হিড়িক পড়েছে ফেসবুকে। ইশফার ইশু নামের একজন লিখেছেন, ‘বিশ্বাস তো সেদিনই ভেঙ্গে গিয়েছে যেদিন দেখলাম মশার কয়েলের ওপর মশা বসে আছে (সংগ্রহীত)। বিশ্বাস তো ওই দিনই জোড়া লাগবে যেদিন দেখবো মশার কয়েলের ধোঁয়ায় সব মশা মরে পড়ে আছে (নিজস্ব)।’

নাদিমুল নামের একজন লিখেছেন, আমি সেদিন থেকেই সবাইকে অবিশ্বাস করা শুরু করেছিলাম…যেদিন দেখেছিলাম জলন্ত কয়েলের ওপর মশা বসে আছে…!