এখনই শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হচ্ছে না!

অপু বিশ্বাস ও শাকিব খানের বিবাহবিচ্ছেদ আগামী ১২ মার্চে। তালাকনামা পাঠানোর তিন মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল। তাই নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ঢালিউডের আলোচিত এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (অঞ্চল-৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন জানান, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ আইনের আলোকেই শাকিব ও অপুর বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি এগোচ্ছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ কার্যকরী হচ্ছে, এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে হেমায়েত হোসেন বলেন, আমার চোখেও পড়েছে এমন দু-একটি নিউজ, যে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ আজ কার্যকর হলো। বিষয়টা আসলে তা নয়। শাকিব খান যেদিন স্বাক্ষর করেছিলেন, সেদিন থেকে তিন মাস পর কার্যকর হবে ব্যাপারটা এমন নয়। আমরা সিটি কর্পোরেশন তাদের তিন মাসে তিনবার ডাকব, সেই তৃতীয়বার বিষয়টির ফয়সালা হবে। যে কারণে আজ তাদের বিচ্ছেদ বা পুনরায় সংসার শুরু কোনোটাই হচ্ছে না।

এর আগে আমরা দু’বার তাদের ডেকেছি। প্রথমবার অপু বিশ্বাস এলেও শাকিব খান বা উনার কোনো প্রতিনিধি আসেননি। দ্বিতীয়বার তারা কেউই আসেননি। আগামী ১২ মার্চ আমাদের তৃতীয় বৈঠক। সেখানে যদি তারা না আসেন, তা হলে আমরা মামলা খারিজ করে দেবো।

আইনগতভাবে তালাকের নোটিশ পাঠানোর তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে দম্পতির মধ্যে সমঝোতা না হলে তাদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। সে অনুযায়ী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে নায়ক শাকিব খানের পাঠানো তালাকনামার গতকাল ৯০ দিন পূর্ণ হয়েছে।

তবে এখনই ঘরভাঙার চূড়ান্ত ঘোষণা হচ্ছে না। এজন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১২ মার্চ পর্যন্ত। হ্যাঁ, ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে শাকিব-অপু আবারও একসঙ্গে থাকবেন কিনা, নাকি তারা আলাদাই জীবন শুরু করবেন সেটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে ১২ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গত বছরের ২২ নভেম্বর শাকিব খান তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে অপুর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। একইসময়ে শাকিব খানের পক্ষে ডিনএসিসির মেয়র কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায়ও তালাকের এই নোটিশ পাঠানো হয়।

কিন্তু পরে জানা যায়, অপু বিশ্বাসের হাতে তালাকনামা পৌঁছে ১২ ডিসেম্বর। এর ঠিক একমাস পর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তারকাদম্পতির সংসার অটুট রাখতে সালিশি বৈঠক ডাকে ডিএনসিসি। তবে বৈঠকে অপু উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না শাকিব। তার একমাস পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডাকা ডিএনসিসি’র বৈঠকে শাকিব কিংবা অপু কেউই উপস্থিত হননি।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ে করার পর ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাকিব-অপুর সম্পর্কের ফল হয়ে আসে সন্তান আব্রাম খান জয়। সন্তানের বিষয়টি তারা গোপন রাখে। এরপর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল এক বিকেলে ৬ মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এসে সব গোপন ফাঁস করে দেন অপু বিশ্বাস। নিজেকে শাকিবের স্ত্রী ও কোলের সন্তানকে তাদের সম্পর্কের ফসল বলে দাবি করেন অপু।

এর পর থেকেই শাকিব-অপুর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় তাদের দেখা-সাক্ষাতও।