আবারও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীর

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন তারা।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকের অফিসে অবস্থান নেন কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা। তবে দাবি পুরণে আশ্বাস না পাওয়ায় আজ প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

দাবি আদায় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সুমন মাদবর জানান, ‘আমরা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অবস্থান করছি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালকের অফিসে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদের চলমান কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ সহকর্মী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এমন অবস্থাতেও দাবি পূরণের কোনো ঘোষণা কিংবা প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় আজ (শুক্রবার) আবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছি।’

গত ২৭ জানুয়ারি থেকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) প্রতিটি ক্লিনিকে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন পালন করছেন তারা।

অনশনে অংশ নেয়া সিএইচসিপিরা বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৪৪২টি ক্লিনিক চালু আছে। আমরা সপ্তাহে ছয় দিন প্রতিটি ক্লিনিকে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকি। সেই হিসেবে দৈনিক পাঁচ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষ এসব ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। আমাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে এখন পাঁচ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষ এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, গত ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমাদের ১৪ হাজার কর্মচারীর চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছি। এরপর গত ২৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেই। ৩১ জানুয়ারি আমাদের দাবি না মেনে আগের মতো মৌখিক আশ্বাস দেয়ায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির পালন করে আসছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

উল্লেখ্য, আমরণ অনশন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ায় ৮ জনকে সাময়িক বহিস্কার করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্ট গঠনের লক্ষ্যে চার সদস্যের টিমও গঠন করা হয়েছে।