মার্চে আবার চালু হচ্ছে ১০ টাকায় চাল বিক্রি

আগামী মাস থেকে অতি দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচীর জন্য বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল দরকার হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এতে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আবারও ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি চালু করবে সরকার। ২০১৬ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচি বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ থাকলেও বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এসে আবারও এই কর্মসূচির আওতায় চাল বিক্রি করতে যাচ্ছে সরকার।

আগামী মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অতি দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা করে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির জন্য বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল দরকার হবে। চলতি আমন মৌসুমে ছয় লাখ মেট্রিক টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ইতিমধ্যে ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের খাদ্যশস্য মজুত আছে ১৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ১০ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং বাকিটা গম।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাদ্যসচিব শাহবুদ্দিন আহমদ বলেন, সবার সহযোগিতায় আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছিল। পল্লী অঞ্চলের কর্মাভাবকালীন মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর- এই পাঁচ মাসে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের।

১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ শুরু করার পর তালিকায় স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম থাকা, বাইরে বেশি দামে চাল বিক্রি করা, ওজনে কম দেয়াসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া সুবিধাভোগীদের কার্ড বাতিল, ডিলারশিপ বাতিল, ডিলারদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলা, জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধনীরা ওই কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন ও দরিদ্ররা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তী সময়ে তালিকা সংশোধন করে কর্মসূচিটি চালু হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি গুদামে চাল সংকটের কারণে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়। সরকারি গুদামে চালের পরিমাণ ১০ লাখ টন অতিক্রম করার পর আবারও ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ওই কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তারা। এসময় খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।