‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পূর্বের চেয়েও বেশি অত্যাচার করবে’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘তারা (বিএনপি) আমাকেও হাতকড়া পরিয়েছিল। তার আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের অত্যাচারের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি অত্যাচার করবে। তারা ২০০১ এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের গণহারে গ্রেপ্তার করেছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার বিশ্বরোড বাজারে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন আওয়মী লীগ আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। বিএনপিও এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বিএনপি লুটপাট ও মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করে হত্যা করা ছাড়া দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে তারা মানুষের ঘর-বাড়ি লুট ও মা- বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে। আবার যদি তারা ক্ষমতায় আসতে পারে পূর্বের চেয়েও অনেক বেশি অত্যাচার করবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে। সে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। বর্তমান ক্ষমতাশীন দলের অধীনে। ক্ষমতাশীন দল আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস দৈনন্দিন কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং এ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।’

জাময়াত-শিবিরকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা নিয়ে আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী দল জামায়াতকে সঙ্গে রেখেছে। তারা আন্দোলনের নামে ২০১৩ সালে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের সব ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে।’ সব ষড়যন্ত্র বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণ করে জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছগির আহমেদ মাস্টারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, জেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হর আরজু।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, পশ্চিম ইলিশা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফারুক গাজী প্রমূখ। পরে মন্ত্রী নতুন সদস্যদের হাতে সদস্য ফরম তুলে দেন।

বিকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত নতুন সদস্য সংগ্রহ সমাবেশে যোগদান করেন।