বাঁশের তৈরি শহীদ মিনার দিয়ে আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

নওগাঁ জেলার ছোট্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় মনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৮৯ সালে স্থাপিত ১০২ মনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজও একটি শহিদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করল মনিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (আত্রাই, নওগাঁ) শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গ্রামবাসি।

মনিয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রঙ্গনে দিবসটি পালন করা হয়। গ্রামের প্রবীণ শুরু করে স্কুলের শিক্ষার্থী সহ ছোট ছোট বাচ্চরা সকলেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় রচনা প্রতিযোগিতা, করিতা আবৃতি এবং দেশাত্মবোধ গানের।

প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সব অনুষ্ঠানের অায়োজনে ছিলেন গ্রামের একটি সংগঠণ “বন্ধন মনিয়ারী”। সহযোগীতা ছিলেন স্কুল কতৃপক্ষ এবং শিক্ষকবৃন্দু। যদিও আমাদের মনে খুবই কষ্ট যে আমাদের গ্রামে ৬নং মনিয়ারী ইউনিয়ান পরিষদ অবস্থিত, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত এবং ইউনিয়ানের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রাম, তারপরও আমাদের গ্রামে কোন শহীদ মিনার নেই তবুও আমরা আনন্দিত যে আমরা নিজের হাতে বানানো শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরেছি, যদিও বাঁশের তৈরি শহীদ মিনার তবে এটিই হবে গ্রামের প্রথম শহীদ মিনার। এমন ভাবেই জানিয়েছে “বন্ধন মনিয়ারী” সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং অর্থ-সচিব শিশির মারুফ।

তিনি আরও বলেন এই শহীদ মিনারের দাবি আমরা অনেক দিন ধরে করে যাচ্ছি যদিও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি শহীদ মিনার থাকা জরুরি তবুও নেই ,তাই নিরুপাই হয়ে বাঁশ দিয়েই নির্মান করলাম শহীদ মিনার। এর আগে এ ভাবে আমাদের গ্রামে কখনোই এভাবে দিবসটি পালন করা হয়নি।সংগঠণের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক এম জে জামান মিশন বলেন এমন ভাবে চলতে থাকলে আগামি প্রজন্ম ইতিহাস জানা থেকে বিরত থেকে যাবে।তাই দাবি জানাই সরকার যে আমাদের স্কুলে অতি তারাতারি একটি শহীদ মিনার স্থাপন করেন ।

“বন্ধন মনিয়ারী” আরও একজন প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংগাঠণিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন বলেন এবছর হয়ত আমরা বাঁশ দিয়ে দিবসটি উদযাপন করলাম তবে আগামি দিবসে যেন আর এই বাঁশের শহীদ মিনারে উদযাপন করতে না হয়।এর জন্যে সরকারের কাছে অনুরোধ অামাদের স্কুলে যেন অচিরেই একটি শহীদ মিনার স্থাপন করে।