‘দুলা ভাই আপনাকে কিন্তু নায়ক বানাবো’

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সারাহ বেগম কবরী বলেছেন, ওয়াজেদ ভাইকে সব সময় বলতাম দুলা ভাই আপনাকে কিন্তু নায়ক বানাবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কাটানোর সময়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে কবরী জানান, ‘তিনি অনেক খুশি হতেন, তার সাথে আমি অনেক দেখা করতাম। মাঝেমধ্যে আপার সাথে হলে বলতাম যে আপা অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপা নায়ক কই।’

এ সময়ে কবরী জানান, এই যে তিনি(ড. ওয়াজেদ মিয়া) ছিলেন একজন বিজ্ঞানী কিন্তু তবুও তিনি দেশপ্রেমিক। ওয়াজেদ সাহেব আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন।

 এছাড়াও ভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই চিত্রনায়িকা বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি ছিল প্রাণের দিন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান মাহমুদ বলেন, ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন নিভৃতচারী মানুষ। তিনি নিজের পরিচয়ে বড় হয়েছেন। তিনি কাউকে এই পরিচয় দিতেন না যে সে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর মেয়ের জামাই। আজকের যে সুধাসদন তা এই ওয়াজেদ মিয়ার সৃষ্টি। তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়ে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৭৭তম জন্মদিন ছিল গত শুক্রবার(১৬ই ফেব্রুয়ারি)।

১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লালদিঘীর ফতেহপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এই বিজ্ঞানী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি তার সমগ্র কর্মজীবনে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

পিতা আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতা ময়জুনেসার চার পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন সর্ব কনিষ্ঠ। গ্রামের প্রাইমারি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী ও পীরগঞ্জ থানার হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন শেষে তিনি ১৯৫২ সালে রংপুর শহরের সরকারি জেলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে এই স্কুল থেকে ডিস্টিংশনসহ ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।

এদিকে দিবসটি পালন উপলক্ষে রংপুর মহানগরী এবং তার জন্মস্থান পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘি ফতেহপুর গ্রামে ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, মহাজোটের শরীক দলসমূহ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন স্মৃতিচারণ, সুরা ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।