আশুলিয়ায় ফার্নিচার কারখানা আগুনে পুড়ে ছাই

সাভারের আশুলিয়ায় মধ্যরাতে একটি ফার্নিচার তৈরি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আরও ফায়ার সার্ভিসের ৩ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দিয়ে ড্যাম্পিং এর কাজে অংশ নেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় সাভারের আশু‌লিয়ার গাজীরচট আমির করিমের মালিকানাধীন লিগাসী না‌মে একতলা টিনসেডের এক‌টি রপ্তানিকারক ফা‌র্নিচার কারখানায় আগুন লা‌গে। রাত ৩ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে কারখানার সব মালামাল পুড়ে গেছে। কারখানাটি বিভিন্ন ধরণের আসবাবপত্র তৈরি করতো। দেশে ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো।

এক প্রত্যেক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ করে লিগামী ফার্নিচার এক তলা স্টীলের সেট দিয়ে তৈরি কারখানাটি থেকে বিকট শব্দে অগিকাণ্ড ঘটে। কুন্ডলী পাকিয়ে মাঝখান থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। ভবনের স্ট্রীলের সেডটি ভেঙ্গে কারখানার মাঝখানে পড়ে যায়। এসময় আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে ও আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন বড় হওয়ায় কোনভাবেই কাছে যাওয়ার সুযোগ ছিলো না। পরে ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে করে।

আশুলিয়া থানার এস আই রুহুল আমিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে এসে কারখানার মূল ফটক ভেঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে একতলা ভবনের প্রায় মালামাল পুড়ে যায়। ভবনের দেযালের কারণে আগুন বাইরে ছড়াতে পারেনি। অনেক সময় ধরে ভিতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তবে পাশে থাকা একই মালিকের আরেকটি কারখানা আগুন থেকে রক্ষা পায়। কারখানাটির আশেপাশে আবাসিক এলাকা ছিলো বিধায় ভয়ে লোকজন ছুটাছুটি শুরু করে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, গাজীরচট এলাকায় ফা‌র্নিচার কারখানায় আগু‌নের সূত্রপাত খবর পে‌য়ে ডিই‌পি‌জেড ফায়ার সা‌র্ভি‌সের ৩‌টি ইউ‌নিট আগুন নিয়ন্ত্র‌নে কাজ কর‌ছে। পরে আগু‌নের তীব্রতা বে‌শি থাকায় সাভার থেকে আর ১ টি ইউনিট যোগ দেয়। তবে পানির সরবরাহ না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রনে সময় লাগে। রাত প্রায় ৩ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও বলেন, ধামরাই থেকে ১ টি ও উত্তরা থেকে আরও ১ টি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট যোগ দিয়ে মোট ৭ টি ইউনিট কাজ করে ঘটনাস্থলে। ফার্নিচারের কাঠ ও রং করার স্প্রীড জাতীয় কেমিক্যাল থাকায় আগুনের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যায়। অন্যদিকে কারখানাটি আগুন নির্বাপনের ও পানির সরবরাহের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। তবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। পাশাপাশি তদন্ত ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বলা সম্ভব নয়।