ভাষা শহিদদের স্মরণে ৬ একর জমির উপর এক লাখ মোমবাতি!

‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ভিন্নরকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে নড়াইলে পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

প্রতি বছরের মতো এবারও ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের মাঠে (কুড়িডোব মাঠে) ৬ একর জমির উপর এক লাখ মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নড়াইলবাসী।

এ সময় মোমবাতির আলোয় সারামাঠ আলোকিত হয়ে যায়। আলোর বর্ণিল ছটায় আলোকিত হয় শহিদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন বর্ণমালা, আলপনাসহ গ্রাম বাংলার নানা ঐহিত্যবাহী নকশা। দৃষ্টিনন্দন এসব নকশা নড়াইলবাসীসহ ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন।  এ ছাড়া ৬৭তম ভাষা দিবস উপলক্ষে ৬৭টি ফানুস উড়ানো হয়।

এর আগে প্রদীপ প্রজ্বলনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। এ সময় নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, নড়াইল পৌরসভার মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস, উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজামউদ্দিন খান নিলু, উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব কচি খন্দকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মলয় কুমার কুণ্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিকেলে আলোচনা, গণসঙ্গীত, আবৃতি, কবিতা পাঠ ও দেশাত্তবোধক গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ভাষা শহীদদের স্মরণে নড়াইলে ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের শুরু হয় ১৯৯৭ সালে শহরের সুলতান মঞ্চ চত্বরে । প্রথম বছর মাত্র ৭শ’ মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর থেমে থাকেনি। একুশ এলেই এভাবে স্মরণ করা হয় ভাষা শহিদদের। বর্তমানে বেড়েছে এর পরিধি। এবার  মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি মিলিয়ে ১ লাখ প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।