বাংলা ভাষা চর্চার কথা ভুলে গেলে চলবে নাঃ প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করলে শাসনতন্ত্রে বাংলা কখনোই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেত না।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে মর্যাদা দেয়। সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। শহীদ মিনার নির্মাণে বাজেট দেওয়া হয়। কিন্তু আইয়ুব খান মার্শাল ল দিলে সেটি আর এগোয়নি।

‘স্বাধীনতার পর আমরা দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছি। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি ৭ মার্চের ভাষণকেও স্বীকৃতি দিয়েছে, যে ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।’

শ্রীলঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কিছু কিছু চিত্র দেখেছি। এজন্য সত্যিই আমরা আনন্দিত। জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত সব দেশে যেন এ দিবসটি পালিত হয়, আমরা এর জন্য তথ্য সব জায়গায় পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকেও প্রতিবছর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বাংলা ভাষা চর্চার কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাহলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবে।

পাকিস্তান সরকারের সময় বাংলা ভাষা ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাভাষা নিয়ে অনেক যন্ত্রণা আমাদের সইতে হয়েছে। এখানে অনেকেই সে কথা বলতে পারবেন না। ভুক্তভোগী হিসেবে আমাদের বিষয়টি মনে আছে। একসময় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলো বাংলা অক্ষরে বাংলাভাষা লেখা যাবে না। আরবি হরফে বাংলা লিখতে হবে, এ দাবির প্রতিবাদ করলো বাঙালিরা। তারপর বলা হলো, রোমান হরফে বাংলা লিখতে হবে। এরও প্রতিবাদ হলো। তারপর এলো রবীন্দ্রনাথ পড়া যাবে না। তিনি হিন্দু। এ জন্য তার লেখা পড়লে আমাদের মুসলমানিত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের লেখাগুলোকে মুসলমানি ভাষা দেওয়া হবে। তার ‘মহাশ্মশান’ হয়ে গেলো ‘গোরস্থান’। ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’কে পরিবর্তন করা হলো। লেখা হলো, ‘ফজরে উঠিয়া আমি দলে দলে বলি।’ আমাদের ছাত্রজীবনে কত রকমের যন্ত্রণা ভোগ করেছি, তা আপনারা বুঝতেই পারছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়। সে নির্বাচনে নৌকার জয় হয়। পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রের কারণে সে নির্বাচন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। আবার ১৯৫৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করলে পাকিস্তান শাসনতন্ত্রে বাংলা ভাষা মর্যাদা পেতো না। তখন ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ঘোষণা করে। শহীদ মিনার গঠন করে। এজন্য বাজেটও করা হয়। তবে আইয়ুব খান সামরিক শাসন দেওয়ার পর সেটা তখন এগোয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।