পূর্ব ভারত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজ, দৃশ্যমান হল পুরনো বিরোধ

মালদ্বীপে সাংবিধানিক সংকট ও চলমান জরুরি অবস্থার মধ্যেই চলতি মাসে পূর্ব ভারত মহাসাগরে ১১টি চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির খবর দিয়েছে চীনের একটি অনলাইন গণমাধ্যম। ওই নৌবহরে দ্রুতগামী বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, অন্তত একটি ফ্রিগেট, ৩০ হাজার টন ওজনের উভচর ট্রান্সপোর্ট ডক ও তিনটি সাপোর্ট ট্যাঙ্কার আছে বলে সিনা ডটকম ডট সিএন জানিয়েছে, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

তাদের প্রতিবেদনে যুদ্ধজাহাজগুলোর সঙ্গে মালদ্বীপের চলমান সংকটের কোনো যোগ আছে কিনা তা বলা হয়নি; কি কারণে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও ট্যাঙ্কারগুলো ভারত মহাসাগরে এসেছে তারও কারণ দেখানো হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তাছাড়া রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিনা ডটকম ডট সিএন বলেছে, “যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দিকে যদি দেখেন, ভারত ও চীনা নৌবাহিনীর মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান নেই।” কবে এবং কতদিনের জন্য এ নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে জানাতে পারেনি তারা।

রয়টার্স বলছে, এশিয়াজুড়ে এবং এর বাইরেও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যোগাযোগ বাড়াতে বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভে যুক্ত হতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন চুক্তি করার পর এ দ্বীপরাষ্ট্রটিকে ঘিরে দুই আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও চীনের পুরনো বিরোধ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

মাত্র চারশ কিলোমিটার দূরের দেশ মালদ্বীপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার বন্ধনের সূত্র ধরে ভারত চার লাখ জনসংখ্যার এ দ্বীপরাষ্ট্রে চীনের বিস্তৃত উপস্থিতি ঠেকাতে চায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদ্বীপের বিরোধী দলের নেতারাও দেশটির বর্তমান সংকটে হস্তক্ষেপ করতে নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ভারত মহাসাগরে যুদ্ধজাহাজসহ নৌবহরের বিষয়ে রয়টার্স মন্তব্য চাইলেও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির নয় বিরোধী নেতার কারাদণ্ডের রায় বাতিল করে তাদের মুক্তি দিতে এবং সংসদ সদস্যপদ পুনর্বহালের নির্দেশের পর প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন। জরুরি অবস্থার মধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ দুই বিচারপতিকে আটক করার পর সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারকরা আগের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। সোমবার ইয়ামিন জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়াতে পার্লামেন্টের অনুমোদন চেয়েছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি, কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ ও এর বিস্তৃতি বাড়ানোর কারণে চীন পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা কুড়িয়েছে।