আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাকহীনদের জন্য ২১ মিনিট নীরবতা পালন

পৃথিবীতে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগের কারণেই ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাক প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ২১ মিনিট নীরবতা পালন করেছে পাবনার চাটমোহরের একদল তরুণ-তরুণী।

বুধবার দুপুরে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বাজারে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ২১ জন বাক প্রতিবন্ধী ও ২১ জন সবাক মানুষ মুখোমুখি বসে ২১ মিনিটের নীরবতা পালন করেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সমাজের সুশীল, জন-প্রতিনিধিসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।

এই আয়োজনে অংশ নেওয়া ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবির বলেন, সাদা চোখে খুব সাধারণ মনে হলেও ছোট এই আয়োজনের অসাধারণ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। মাত্র ২১ মিনিট নীরবে বসে থাকতে আমার নাভিশ্বাস উঠেছিল, সত্যিই খুবই কষ্টের। সমাজ জীবনে ভাষা কতটা প্রয়োজনীয় তা এই নির্বাক মানুষের মুখোমুখি বসে আজ নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

পাবনার স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক হেলালুর রহমান জুয়েল জানান, ‘১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য আমরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছি। কিন্তু স্যাটেলাইট আর প্রযুক্তির অপব্যবহারে আমরা প্রতিনিয়ত গৌরবের বাংলা ভাষাকে বিকৃত করে চলছি। বাকহীন ২১ মিনিট যেন সেই সব বিকৃতকারীদের প্রতি প্রতিবাদ।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন বলেন, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ও যুব প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির বলেন, বাক প্রতিবন্ধীদের কষ্টকে অনুধাবন করতে এবং বাংলা ভাষার প্রতি এই প্রজন্মকে শ্রদ্ধাশীল করতে আজকের এই আয়োজন। নির্বাক মানুষের প্রতি সহমর্মিতায় হাজারও মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিয়েছে।

সারা দেশের ন্যায় একুশের প্রথম প্রহরে পাবনার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি। পরে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটিকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করে।