প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী। এরই মধ্যে এ অঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাহারি তোরণ-বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে এসব তোরণ-বিলবোর্ড।

ঝোলানো হয়েছে নানান সাইজের ব্যানার-ফেস্টুন। এ আয়োজন সফল করতে দফায় দফায় সভা-সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো। সবমিলিয়ে গতিময় হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজনীতি। শহর ছাপিয়ে এর রেশ গিয়ে ঠেকেছে গ্রামের পাড়া মহল্লায়। সবখানেই চলছে সাজসাজ রব। চলছে প্রচার-প্রচারণা।

এখন চলছে সভামঞ্চ তৈরি ও মাঠ প্রস্তুতির কাজ। বিশাল আকারের নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে এবারের মঞ্চ। রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে মঞ্চ তৈরি। বুধবারের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে মঞ্চ। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভা।

আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এরই মধ্যে নগরীকে তোরণ, ব্যানার ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। জনসভাস্থল মাদরাসা ময়দানে নৌকাসদৃশ বিশালাকার মঞ্চ নির্মাণ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়াও ১৪ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ জনসভায় অংশ নেবেন। জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তর করতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ উপস্থিত থাকবেন।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন আরও ৯টি প্রকল্পের। এর বাইরে রাজশাহী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯টি দাবি জানানো হবে। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তার জনসভা থেকে এসব দাবি পূরণের ঘোষণা দেবেন বলে আশাবাদী এ আওয়ামী লীগ নেতা।

আওয়ামী লীগের দাবিগুলো হচ্ছে- রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, নতুন করে দুটি সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, প্রস্তাবিত চামড়া শিল্প নগরী স্থাপন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণ, রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালু এবং রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর পর্যন্ত রেলপথ ডাবল লাইন ও ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে রাজশাহীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তল্লাশি, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তারা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছেন।

ইফতেখায়ের আলম বলেন, জনসভায় বিপুল লোকসমাগম মাথায় রেখে নগরীর নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জনসভায় যোগ দিতে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ রুটের যানবাহনগুলো সিটি বাইপাস হয়ে তেরখাদিয়া এলাকার বিভাগীয় স্টেডিয়াম এলাকায় পার্কিংয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নাটোর রুটের যানবাহনগুলো বাস টার্মিনাল হয়ে সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় পার্কিংয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে স্টিকারযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ গাড়িগুলো জনসভা সংলগ্ন উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার মাঠ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহ যানজটমুক্ত রাখাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তায় সবার সর্বাত্মক সহায়তা চান এ পুলিশ কর্মকর্তা।