দফায় দফায় খালেদার আইনজীবীদের বৈঠক

দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তার আইনজীবীরা। হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে আবেদন করা হবে সেই বিষয়টি ছাড়াও আপিলের গ্রাউন্ড ও এখনই দণ্ড স্থগিত চাওয়া হবে কি না এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করছেন আইনজীবীরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের বার ভবনের কনফারেন্স রুমে বৈঠকে বসেন আইনজীবীরা। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এই বৈঠক। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় আবারও বৈঠকে বসেন তারা। এর আগে গতকাল সোমবার রাতেও বৈঠক করেছেন খালেদার আইনজীবীরা।

বৈঠকে আছেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনসহ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা পুরো রায়টি পড়ে দেখেছি। এখন আপিলের প্রস্তুতির গ্রাউন্ড তৈরি করা হচ্ছে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই আপিল দায়ে করতে পারব।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ায় আমরা গতকাল রাতে বৈঠক করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে বৈঠক করেছি। দুপুর সাড়ে ১২টায় পুনরায় বৈঠকে মিলিত হবো। এরপর আপিল দায়ের বিষয়টি আপনাদের জানিয়ে দেবো।’ পর্যাবেক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণের অধিকাংশ অসত্য। রায়ে যে পর্যাবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিল নেই।

এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।

রায়ের দিন খালেদার আইনজীবীরা ১১ ফেব্রুয়ারি আপিলের কথা জানালেও রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় আপিল করতে পারেননি। এরপর থেকে প্রতিদিনই রায়ের কপি পাওয়ার আশার কথা জানালেও পাননি আইনজীবীরা। খালেদা যেন জামিন আবেদন করতে না পারেন, সে জন্যই রায়ের কপি দিতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবশেষ গতকাল বিকালে রায়ের অনুলিপি পান খালেদার আইনজীবীরা।

১১৭৪ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি আদালত থেকে বুঝে নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি হয়েছে ১১৭৪ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে ১১৬৮ পৃষ্ঠা রায়ের বিবরণ এবং ছয় পৃষ্ঠা মূল আদেশ।