‘ক্ষমতাসীনদের ঘুম হারাম না করে নিজেদের চরকায় তেল দিন’

বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘ঘুম হারাম’ না করে তাদের ‘নিজের চরকায় তেল দেয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র নিয়ে আপনাদের ঘুম নেই। আমরা কাকে চেয়ারপারসন করলাম কী করলাম না; তা নিয়ে আপনাদের মাথা ব্যথা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হয়েছেন। গঠনতন্ত্রে এ বিষয়টি আছে যে, চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।’ ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে না ভেবে নিজের চরকায় তেল দেন। নিজের পার্টির অবস্থা দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেটি চিন্তা করুন।’ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এ সভার আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি।

এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না বলে দেয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটা নিয়ে অযৌক্তিক মন্তব্য করছেন। আপনার তো মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই। কারণ এ প্রসঙ্গ তো আপনার কাছে এখনো যায়নি। আপনি আগাম মন্তব্য করেছেন। আপনি প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়েছেন। বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি এখনি এমন মন্তব্য করছেন কেন? এজন্য বলছি আগে থেকে আপনারা গ্রাউন্ড করে রাখছেন।

গণতন্ত্রের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। সরকারকে অহঙ্কার-দাম্ভিকতা পরিহার করে দেশ রক্ষায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন বিএনপির এ নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করতে পারবেন, আমাদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন, কিন্তু ষোল কোটি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘সরকার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নীলনকশা চরিতার্থ করার জন্য আদালতের ওপর ভর করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নিয়েছে। পুরো দেশই এখন কারাগার। থানা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে অসংখ্য গণতন্ত্রকামী মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু গতকালই হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছে প্রায় ৭শ’ জন।’

সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাশূন্য করতে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংষ করে দিতে চায় বলেও এ সময় অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। সরকার নিম্ন আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যে রায়ের কপি পাঁচদিনে পাওয়ার কথা সেটি ১২ দিনে পাওয়া গেল।’ এ সময় বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে শাসকদলের নেতাকর্মীরা ও পুলিশ হামলা চালাচ্ছে।

এনপিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার রেহেনা আক্তার প্রধান, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।