শ্রীলংকার মাটিতেও কোচবিহীন বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরের মাঠে বছরের প্রথম সিরিজটা ‘দুঃস্বপ্ন’ ভেবে দ্রুত ভুলে যেতে চায়। বোর্ডের ভাবনা এখন পরের সিরিজ নিয়ে। আগামী মাসেই শ্রীলংকার মাটিতে রয়েছে ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজ। সেখানে বাংলাদেশের দুই প্রতিপক্ষ ভারত ও স্বাগতিক শ্রীলংকা।

এই সিরিজেও পাওয়া যাবে না নতুন প্রধান কোচ। যে ব্যাটিং কোচের আশা করা হচ্ছিল, নিদাহাস ট্রফির আগে সেটাও অনিশ্চিত। ফলে পরের সিরিজটা যে আরও কঠিন হতে যাচ্ছে সেটা এখনই বুঝতে পারছে বোর্ড। বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকা সফরের আগে ব্যাটিং কোচ হিসেবে মাইকেল বেভান ও নিল ম্যাকেঞ্জির মধ্যে একজনকে পাওয়ার আশায় ছিল বিসিবি। কিন্তু অনেক শর্ত জুড়ে দেয়া বিভানের আশা ছেড়ে দিয়েছে বোর্ড।

এত শর্ত পূরণ করে বিভানকে আনতে পারবে না বিসিবি। অথচ ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেও বিভানের নিয়োগ পাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। তখন বিভানের জন্য আসার টিকিটও কেটে ফেলে বোর্ড। কিন্তু কোনো এক কারণে তখন বাংলাদেশের ভিসা না হওয়াতে আটকে যায় তার আসা। এরপর বিভান আরও বেশি শর্ত জুড়ে দেন। তবে ম্যাকেঞ্জির ব্যাপারে এখনও আশাবাদী বিসিবি। কাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস যুগান্তরকে বলেন, ‘এই সিরিজের কথা ভুলে গিয়ে সামনের সিরিজ নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিদাহাস ট্রফির আগে প্রধান কোচ পাওয়া কঠিন। তবে ব্যাটিং কোচের আশা করতে পারি। ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এটাও অনিশ্চিত।’

অথচ গত ডিসেম্বরে রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স সাক্ষাৎকার দিতে এলে মনে হয়েছিল ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেই নতুন কোচ পাচ্ছেন মাশরাফি-সাকিবরা। এখন বিসিবির কাছে একজন প্রধান কোচ সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় বলেছিলেন, ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ তারা চালিয়ে নিতে পারবেন। তাড়াহুড়ো করে কোচ খোঁজার দরকার নেই। বিসিবি সভাপতি তখন বলেছিলেন, দলে তো মাশরাফি ও সাকিবও কোচ। কিন্তু হতাশার এক সিরিজের পর আবারও প্রধান কোচের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছে বিসিবি। কিন্তু ‘ধীরে চলো’ নীতিতে চলতে গিয়ে একটু যেন বেশিই পিছিয়ে পড়েছে তারা।

প্রধান কোচ না পেলে শ্রীলংকা সফরের জন্যও কোচিং স্টাফ থেকে কাউকে প্রধান কোচ করা হবে না। ঘরের মাঠের সিরিজে যেমন খালেদ মাহমুদ সুজনকে টিম ডিরেক্টর করা হয়েছিল, তেমনি শ্রীলংকা সফরেও কাউকে টিম ডিরেক্টর করা হবে। বিসিবির দাবি, টিম ডিরেক্টরকে কোনোভাবেই প্রধান কোচ বলা যাবে না। টিম ডিরেক্টর হতে পারেন খালেদ মাহমুদ বা সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল।