‘দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব’

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য। যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা আপনাদের রক্ষা করতে হবে, এটা পবিত্র দায়িত্ব। সেই সঙ্গে আপনারা সব সময় চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ করবেন সেটাই আমরা চাই।

তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তার যে গুরু দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে, তা প্রতিপালনে সদা সচেষ্ট থাকবেন। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ আর কখনই যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সোমবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৮তম জাতীয় সমাবেশ ২০১৮ এর কুচকাওয়াজসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পরপরই প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানান আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য আনসার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্ধারিত সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী পদক পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তাদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খেলাধুলা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না। সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ধন্যবাদ জানাই সকল আনসার, ভিডিপি সদস্যকে যখন বিএনপি জামায়াত জোট আগুন দিয়ে বাস ট্রেন পুড়াচ্ছিল, মানুষ হত্যা করেছিলে তখন আপনারা বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন।

ছেলেমেয়েরা যেন কোনোভাবেই মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে সমাজের শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সকলকে সেদিকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সকলের কাছে আবেদন থাকবে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখছে কিনা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠিক মতো থাকছে কিনা, কার সঙ্গে মিশছে বিষয়গুলোর দিকে সবাইকে সুদৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত করে উন্নয়নের যে ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে আমরা সে ধারা অব্যাহত রাখবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা, এই দেশকে আমি চিনি জানি, এ দেশের প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যাতে উন্নত হয় তার জন্য আমরা কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখনই ক্ষমতায় এসেছি তখনই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরাই প্রথম আনসার বাহিনীর হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। দাবি দাওয়ার বিষয়ে আমাকে কিছু বলতে হবে না। আমরা আপনাদের জন্য সর্বনিম্ন ১৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করেছি।