‘পরমাণু যুদ্ধের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বর্তমান পৃথিবী’

বর্তমান পৃথিবী পরমাণু যুদ্ধের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পরমাণু বিজ্ঞানী আর্নেস্ট মোনিজ।নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিইও ও কো-চেয়ারম্যান মোনিজ মনে করছেন, ক্ষুদ্রাকৃতির বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক বোমা তৈরী হয়েছে বিশ্বে; যেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে একটুখানি অসাবধানতার কারণে অনিচ্ছাকৃত বিস্ফোরণ ঘটতে পারে যখন-তখন। হ্যাকিং আক্রমণের কারণেও পারমণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামা সরকারের জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন মোনিজ। পরে তিনি নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভে তৎপর হন।

যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ। তবে অস্ত্র উন্নয়নের কথা অস্বীকার করে থাকে বেশিরভাগ দেশ। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিইও এবং কো-চেয়ারম্যান আর্নেস্ট মোনিজ মনে করেন, ‘পৃথিবীর জন্য এটা আশীর্বাদ যে ভুল করে কোনও পারমাণবিক বোমা ছোঁড়া হয়নি এখন পর্যন্ত। কিন্তু ক্রমেই এই আশঙ্কা বাড়ছে। ভুলে বিস্ফোরণের সম্ভাবনার পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে বহু পক্ষের বিবাদে জড়িয়ে যাওয়াও পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে’ । ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষুদ্রাকৃতির পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে মোবাইল ফোনে এই জরুরি সতর্ক বার্তা পান যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যের বাসিন্দারা। ওই বার্তায় বলা হয়,  ‘ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি হাওয়াইয়ের দিকে ছুটছে। দ্রুত আশ্রয় খুঁজে নিন। এটা কোনও প্রশিক্ষণ নয়।’ ওই দিন রেডিও আর টেলিভিশনেও একই বার্তা প্রচারিত হয়। এরপরই পুরো রাজ্য জুড়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই বার্তাকে ভুয়া বলে ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ভুল সতর্কতা সংক্রান্ত সেই ঘটনা সম্পর্কে মোনিজ বলেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যে ভুল সতর্কতা সঙ্কেত দেওয়া হয়েছিল তা অনেক বড় পাল্টা ভুল সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারত। হাওয়াইয়ের এই বিপদ সঙ্কেত যে ভুল ছিল তা বুঝতে ৩৮ মিনিট লেগে গিয়েছিল। ‘পরমাণু আক্রমণের জবাবে পাল্টা পরমাণু আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে  ট্রাম্প, পুতিনসহ অন্যান্য নেতাদের জন্য ৩৮ মিনিট যথেষ্ট। আমরা এর আগেও এরকম ভুল সঙ্কেতের কারণে কয়েকবার বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেছি। কিন্তু এভাবে বেঁচে যাওয়ার সুযোগ কমে আসছে।’

ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য নতুন স্বল্প পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ওবামা যুগে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তা হলো ইউরোপে মোতায়েন করা বি-৬১ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আধুনিকায়নের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব। মেনিজ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই দুই সিদ্ধান্ত পরমাণু আক্রমণের আশঙ্কা বাড়াবে।

সমালোচকরা বলছেন, রাজনীতিবিদ ও জেনারেলদের কাছে এসব ছোট ছোট অস্ত্রই বেশি প্রিয় হয়ে উঠবে। আর তা বাড়িয়ে দেবে পরমাণু আক্রমণের সম্ভাবনা। মোনিজও সেটাই মনে করেন। ম্যাসাচুয়েটস ইন্সটিটিউট-এমআইটির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই প্রধান বলেছেন, ‘ছোট ছোট এত পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে সেগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে যেকোনও সময়ে। তখন নির্দিষ্ট করে জানাটাও কঠিন হবে যে আক্রমণটা কোন পক্ষ শুরু করেছিল। তাছাড়া এমনও হতে পারে, তৃতীয় কোনো পক্ষ হ্যাকিং করে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধটা বাঁধিয়ে দিতে পারে।’

অধ্যাপক মোনিজ স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট যখন ইরাকের মসুল শহরে দখল নিয়েছিল তখন সেখানে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোবাল্ট-৬০ জমা ছিল প্রচুর পরিমাণে। আইএস চাইলে তার অপব্যবহার করতে পারত। মোনাজ তাই চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থের সুব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছেন।