ওরস উৎসব, দুই বাংলার মিলনমেলা

ওরস উৎসব উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদে বাংলাদেশ ও কলকাতার বাঙালিদের মিলনমেলা বসেছে। শনিবার সকালে বিশেষ ট্রেনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ জন পুণ্যার্থী মেদিনীপুরে পৌঁছান। বাংলাদেশের পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে ওই দিন সকালে মেদিনীপুর স্টেশনে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্যাম্প খোলা হয়। ক্যাম্পে ছিলেন শহরের কয়েকজন কাউন্সিলর। খোলা হয়েছে মেডিক্যাল ক্যাম্পও। শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ যাচ্ছেন সেখানে।

মেদিনীপুর শহরের মিয়াবাজারে জোড়া মসজিদে প্রতি বছর ৪ ফাল্গুন দিনটি পালন করা হয়। সুফি সাধকের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এই দিনে জোড়া মসজিদে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জড়ো হন। ১১৭তম ওরস উৎসব উপলক্ষে মিয়াবাজারে মেলাও বসেছে। মেলা প্রাঙ্গণে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই ভিড় করেন। উৎসব ঘিরে চিরাচরিত উৎসাহের ছবি দেখা দেখা যায় শুক্রবারই। শনিবার মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। ওরস উপলক্ষে ১৯০২ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ ট্রেন যায় মেদিনীপুরে। ওরস যাত্রীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ভারত-বাংলাদেশ দু’দেশের উদ্যোগেই এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

পুণ্যার্থীদের সঙ্গে বিশেষ ট্রেনে করেই মেদিনীপুরে যান বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বহু মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। প্রতি বছরই বিশেষ ট্রেন যায়। এ জন্য ভারত সরকারও সব রকমভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে।ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল। আগামী দিনেও এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আত্মিক যোগের কথা মানছেন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা রাজেশ হোসেন, শেখ সানিরাও। তারা বলেন, ওরস উৎসব যেন দুই বাংলাকে আরও একবার মিলিয়ে দেয়।

মেদিনীপুর পৌরসভার উপ-প্রধান জিতেন্দ্রনাথ দাস বলেন, বাংলাদেশের প্রতি বরাবর এ দেশের আলাদা একটা টান রয়েছে। এই উৎসব যেন তারই যোগসূত্র। যেখানে দুই বাংলার মানুষ একত্র হন। শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উৎসবে আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।