‘অশুভ আত্মা’র হাত থেকে বাঁচতে চূড়ান্ত নৃশংসতা

ভারতের হায়দরাবাদের চিল্কানগর জেলার ট্যাক্সিচালখ কেরুকোন্দা রাজশেখর। তার স্ত্রী শ্রীলতা। রাজশেখর-শ্রীলতা দম্পতির সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বেশ কিছুদিন। সংসারে অভাব ছিল, শ্রীলতাও অসুস্থতায় ভুগছিলেন বছর চারেক ধরে। রাজশেখর এর থেকে মুক্তি চাচ্ছিলেন। তার জন্য বহু পূজা-অর্চনাও করেছেন তিনি। কাজ না হলে তিনি যান এক তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক তাকে পরামর্শ দেন- তিন মাসের শিশুর কাটা মাথা নিয়ে বাড়িতে পুজা করতে হবে! এবং সেটা করতে হবে চন্দ্রগ্রহণের দিন।

সে অনুযায়ী নেমে পড়েন রাজশেখর। ৩১ জানুয়ারি রাতে ফুটপাতে তিন মাসের শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন এক ভিখারি দম্পতি। সেখান থেকে শিশুটিকে চুরি করেন রাজকুমার। চুরি করা বাচ্চা নিয়ে চলে যান নদীর ধারে। সেখানে বাচ্চাটির গলা কাটেন তিনি। এরপর শিশুটির মাথা একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরেন আর ধড়টাকে নদীতে ফেলে দেন। তিন মাসের শিশুর কাটা মাথা নিয়ে বাড়ি ফেরেন রাজশেখর। অপেক্ষায় তার স্ত্রী। বাড়ি ফিরে মাথাটাকে একটা উঁচু জায়গায় রেখে দু’জনে মিলে শুরু করেন ‘শূদ্র পূজা’। পুজা শেষ হলে রাজেশখর মাথাটা ছাদে রেখে আসেন।

তান্ত্রিকের পরামর্শ অনুযায়ী রাজশেখর ছাড়ে মাথাটা দক্ষিণ-পশ্চিম মুখ করে এমন জায়গায় রাখেন যেখানে চাঁদের এবং সূর্যের আলো দুটোই পড়ে। পরদিন কাজে বেরিয়ে পড়েন রাজশেখর। ছাদে কাপড় মেলতে গিয়ে শিশুর কাটা মাথাটি দেখতে পান এক নারী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাজশেখরকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, আটক রাজশেখর প্রথমদিকে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে রাজশেখরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পায় পুলিশ। ফরেন্সিক পরীক্ষায় দেখা যায় ওই শিশুটিরই। পরে রাজশেখরের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলে তান্ত্রিকের বিষয়ে জানতে পারে পুলিশ। শ্রীলতাকে পুলিশ জেরা করলে স্বামীকে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেন তিনি। এরপরই গ্রেফতার করা হয় তাদের দু’জনকে।