খালেদার মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকেই নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় দলের নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া আগামীকাল সারাদেশে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান এবং ২০ ফেব্রয়ারি সারাদেশে ফের বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল শুক্রবার সকালে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় বিএনপি চেয়ারপারান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।

এরপর থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসেছে বিএনপি। রায়ের প্রতিবাদে ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলের নেতাকর্মীরা। ১০ ফেব্রুয়ারি থানা, উপজেলা, জেলা মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ, ১২ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি অবস্থান কর্মসূচি ও ১৪ ফেব্রুয়ারি অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

পাশাপাশি বিদেশি কূটনৈতিক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, আইনজীবী ২০ দলীয় জোটসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের জ্যৈষ্ঠ নেতারা।