স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ৩টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের নেতৃত্বে এ বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে বেলা পৌনে ৩টায় মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি দলের সালাম গ্রহণ করেন কিয়াও সোয়ে।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হচ্ছে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়। এছাড়া ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার ও চোরাচালান বন্ধ, সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

একই সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের শূন্য রেখায় অবস্থানকারী কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া, সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক স্থাপনা বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জাতিগত নিপীড়নে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। মিয়ানমারের সীমান্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকে রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই হয়েছে রোহিঙ্গাদের। তাদের সবাইকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ সরকার। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা মোট ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৬।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে দুই দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়। ১৯ ডিসেম্বর জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা সফরে আসেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিয়াও সোয়ে।