‘সরকারের নির্দেশেই অনুলিপি দেওয়া হচ্ছে না’

সরকারের নির্দেশেই খালেদা জিয়ার রায়ের সার্টিফাইড কপি বা অনুলিপি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রুহল কবির রিজভী। তার দাবি, আইনে পাঁচ দিনের মধ্যে রায়ের অনুলিপি দেয়ার কথা আছে। শুক্রবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। রবিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। কিন্তু রায়ের অনুলিপি পাওয়া যায়নি এক সপ্তাহেও। ফলে আপিল করা যাচ্ছে না।

কত দিনের মধ্যে রায়ের অনুলিপি দিতে হবে-সেটি সুনির্দিষ্ট নয়। দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আপিল করতে লেগে যায় ১৩ দিন। তারও পাঁচ দিন পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। তবে রিজভীর বলছেন, ‘আইনে পাঁচ দিনের মধ্যে বিবাদী পক্ষকে রায়ের কপি সরবরাহের বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে রুলস মানা হচ্ছে না। এটি বিচার বিভাগের ওপর সরকারের আগ্রাসী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে।’

‘রায়ের কপি না দেয়ায় দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন বিশ্লেষক ও স্বাধীন বিবেকের বু্দ্ধিজীবীরা বিস্মিত হয়েছেন।’ রিজভীর ধারণা, রায় এখন সংশোধন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঘোষিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় সরকারের নির্দেশে মনগড়াভাবে সংশোধন হচ্ছে।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘বিচারক ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় ১০ দিনে লিখে শেষ করতে পারেননি, এতে এটিই প্রমাণিত হয়, পুরো রায় না লিখে তড়িঘড়ি সাজার অংশটুকু লিখে বিচারক রায় দিয়েছেন। জালজালিয়াতি ও ঘষামাজা করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দিয়ে প্রহসনের রায় দেয়া হয়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ দলের নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে নিপীড়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বিএনপি নেতা বলেন, ‘তাকে ঘুমানোর সুযোগ না দিয়ে একনাগারে ১৯-২০ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। মাথার ওপর এক হাজার পাওয়ারের বৈদ্যুতিক বাতি ঝুলিয়ে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ।