‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

সরকার পতনে সহিংস কর্মসূচি ব্যর্থ হওয়ার পর এবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘আমরা এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করব কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সরকারকে অপসারণ করা যায়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা যায়। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করব।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের এক আলোচনায় মওদুদ এ কথা বলেন। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপির দশম সংসদ নির্বাচন বানচালের এবং ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। এবারও খালেদা জিয়ার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বালানোর ঘোষণা এসেছিল বিএনপির পক্ষ থেকে।

তবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হওয়ার পর থেকে বিএনপি পাঁচ দিন কর্মসূচি পালন করেছে। আগামী শনি, রবি এবং মঙ্গলবারের কর্মসূচিও দেয়া হয়েছে ‘নমনীয়’। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রায়ের আগের দিনই খালেদা জিয়া হঠকারী কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন।

মওদুদ বলেন, “বর্তমানে বিএনপির সামনে দুইটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আন্দোলনের মাধ্যে বর্তমান ‘ভোটারবিহীন’ সরকারকে অপসারণ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা।” বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরকার চায় খালেদা জিয়াকে ছাড়া ভোট করতে। আমরা স্পষ্ট জরপ বলতে চাই বিএনপি চেয়ারপারানকে ছাড় দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।’

‘আওয়ামী লীগ জনগণের রায় কে ভয় পায়। তাই নিরপেক্ষ সরাকরে অধীনে ভোটের ব্যবস্থা না করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। কারণ, তারা জানে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গেলে আওয়ামীলীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কারণ, দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারের খবর আছে।’

মওদুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে সরকার ভুল করেছে। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এ জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। তাঁরা কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারবে না।’ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি জাল জালিয়াতি করে করা হয়েছে দাবি করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। এটি কোনো ফৌজদারি নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক মামলা।’

‘খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে দুর্বল করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানে হয়েছে।’ ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে রয়েছে তা একটি পরিত্যক্ত নির্জন কারাগার। এখানে তাকে রাখার উদ্দেশ্য তাঁর মনোবল ভেঙে দেয়া। কিন্তু সরকারের এ প্রচেষ্টা সফল হবে না।’

কারাগারে পাঠিয়ে সরকার খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেন মওদুদ। বলেন, ‘এই রায়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে নাগরিক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শুকমল বডুয়া, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল।