যাত্রী পরিবহনে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

যাত্রী পরিবহন ও প্রবৃদ্ধিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার। এক বছরে যাত্রী বেড়েছে আড়াই লাখ বা ১৭ শতাংশ। এর আগে এত যাত্রী পরিবহনের রেকর্ড নেই বিমানবন্দরটির।

প্রবৃদ্ধিতে নতুন রেকর্ডের কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান বলেন ‘আন্তর্জাতিক রুটে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা কার্যক্রম বন্ধ করার পরও এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিদ্যমান সক্ষমতা ও লোকবল দিয়েই আমরা ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিচ্ছি। ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবেলায় সরকার রানওয়ে সম্প্রসারণ, ট্যাক্সিওয়ে বাড়ানো, নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে ৯ লাখ যাত্রী এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ছয় লাখ যাত্রী অর্থাৎ মোট ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। ২০১৬ সালে বিমানবন্দর দিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছিল। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭০ হাজার জন। ২০১৪ সালে ছিল ১০ লাখ ৬৫ হাজার জন। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার জন, শতাংশের হিসাবে যা সাড়ে ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে এখন চারটি দেশি বিমান সংস্থা—রিজেন্ট এয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও বিমান বাংলাদেশ যাত্রী পরিবহন করছে। আর বিদেশি সংস্থার মধ্যে এখন শুধু এয়ার অ্যারাবিয়া ও ফ্লাই দুবাই যাত্রী পরিবহন করছে। গত দুই বছরে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করেছে চারটি বিদেশি বিমান সংস্থা—ওমান এয়ার, মালিন্দো এয়ার, রোটানা জেট ও থাই স্মাইল। চট্টগ্রাম থেকে এখন সরাসরি কলকাতা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, কাতারের রাজধানী দোহা, ওমানের রাজধানী মাসকাট, সৌদি আরবের জেদ্দা ও দাম্মাম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই এবং শারজাহ যাওয়া যাচ্ছে। আবার কানেক্টিং ফ্লাইট দিয়ে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও দুবাই হয়ে বিশ্বের অনেকগুলো গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন হয়েছে ৯ লাখ জন, ২০১৬ সালে ছিল সাত লাখ ৯২ হাজার জন আর ২০১৫ সালে ছিল সাত লাখ ৩৩ হাজার জন।

চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক রুটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহনকারী রিজেন্ট এয়ারের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কে এম জাফর উজ্জামান বলেন, ‘যখনই আমরা কোনো আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রা করেছি তখনই বিদেশি বিমান সংস্থার বদলে দেশীয় বিমানকে বেছে নিয়েছে যাত্রীরা। এ কারণে বিদেশি বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হলেও সেই যাত্রী আমরাই পাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন।’ তিনি বলেন, ‘এখনো আন্তর্জাতিক রুটে ট্রানজিট বা কানেক্টিং যাত্রী ছাড়া বাকি সব যাত্রী দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোই পাচ্ছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডে কর্মরত সব থাইল্যান্ড অধিবাসী রিজেন্টের বিজনেস ক্লাসের নিয়মিত যাত্রী। থাই স্মাইল বিমান সংস্থা চালু হলেও আমাদেরই বেছে নেয় তারা।’

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে এত দিন শুধু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন হতো; কিন্তু ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে একটি রুটে অর্থাৎ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রী পরিবহন যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী চলাচল করে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে। এই রুটে ছোট আকারের ড্যাশ যেমন চলে, মাঝারি আকারের এটিআর এবং বড় আকারের বোয়িং এবং এর চেয়ে বড় বোয়িং ৭৭৭ চলাচল করে। এই রুটে যাত্রী চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ায় চারটি বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা প্রতিদিন প্রায় ২০টি। আগে শুধু সকাল ও বিকেলে যাত্রী পরিবহন হলেও এখন দিনজুড়ে, এমনকি রাত ৯টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা যাচ্ছে।

জানা গেছে, বছরে আড়াই লাখ যাত্রী বাড়লেও বিমানবন্দরে সুযোগ-সুবিধা ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি। রাত ১১টার পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামার সুযোগ নেই, বোর্ডিং ব্রিজ বা বিমানে ওঠার শুধু দুটি সেতু রয়েছে; ট্রানজিট যাত্রীর জন্য পৃথক লাউঞ্জ নেই, বিমান দাঁড়ানোর প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে নেই, ব্যাগেজের জন্য বেল্টের সংখ্যা মাত্র দুটি। ফলে যাত্রীদের লাগেজের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক সময়। বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, একসঙ্গে দুটি বোয়িং বিমান এলে কিংবা ৭৭৭ বিমান নামলে বেল্টে লাগেজ ধারণ করা যায় না। ফলে অনেক সময়জুড়ে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রামের সাবেক প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যস্ততা আগের চেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ওঠার সুযোগ-সুবিধাগুলোও বাড়ানো উচিত সমানতালে। সরকার যে প্রকল্প নিয়েছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে, রানওয়ে সম্প্রসারণ, কার্গো ভবন ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৫৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকার রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল হচ্ছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।