ফরিদপুরে নদী বন্দরের নাব্যতা সংকট, কয়েক হাজার শ্রমিকের আয় রোজগার অনিশ্চিত

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান নাব্যতা সংকটের কারণে ফরিদপুর নদীবন্দরে মাঝারি ও বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না। এদিকে বন্দরে অচলাবস্থার কারণে কয়েক হাজার শ্রমিকের আয় রোজগার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিআইডব্লিউটিএ একটি ড্রেজার দিয়ে থেমে থেমে খননকাজ চালালেও কতদিনে তা শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না।

২০১৫ সালের ১৮ অগাস্ট ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাটকে ‘ফরিদপুর নদীবন্দর’ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর নদীবন্দর হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়। গত নভেম্বরের শুরুর দিকে পদ্মা নদীর হাজীগঞ্জ থেকে নদীবন্দর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। নভেম্বরের শেষের দিকে সংকট চরমে পৌঁছে। এরপর থেকে পণ্যবাহী মাঝারি ও বড় জাহাজগুলো ঘাটে ভিড়তে পারছে না।

নাবিক ও পণ্যবাহী নৌযান সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঝারি মানের জাহাজ চলাচলের জন্যে আট থেকে ১০ ফুট গভীর পানির প্রয়োজন হলেও কোথাও কোথাও গভীরতা বয়েছে তিন থেকে চার ফুট।

‘তামান্না’ নামের একটি জাহাজের মাস্টার মো. আব্দুর রহিম জানান, কয়েক দিনে ধরে মাল নিয়ে এসে সাধিপুরের অস্থায়ী খালাস পয়েন্টে বসে থেকেও মাল খালাস করাতে পারছেন না তারা। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।

এ বন্দর দিয়ে পণ্য আনয়নকারী ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ বলেন, এ ঘাট দিয়ে চাল, বালি, সিমেন্টসহ ৩৫ থেকে ৪০ প্রকারের পণ্য আনা হয়। কার্গো মাঝ নদীতে আটকে থাকায় ছোট নৌকা দিয়ে খালাস করে আনা হচ্ছে; এতে খরচ বাড়ছে। এছাড়া পণ্য খালাসে অতিরিক্ত শ্রমিক খাটাতে হচ্ছে।

শ্রমিক সরদার শরীফ সরকার ও ট্রাক চালক ফরিদ হোসেন জানান, বন্দর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সাদিপুর এলাকায় অস্থায়ীভাবে পণ্য খালাস করে তা পরিবহণ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সড়কের অভাবে পরিবহণ কাজে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

শরীফ সরকার বলেন, বন্দরে জাহাজ আসা কমে যাওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ঘাট ইজারাদার রিয়াদ আহমেদ শাওন বলেন, সিএন্ডবি ঘাট নদীবন্দরে উন্নীত হওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।

“নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে ফরিদপুর নৌবন্দর। রাজস্ব আদায় কমে গেছে।” গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ড্রেজিং কাজ চলছেও ধীর গতির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার অভিযোগ।

বিআইডব্লিউটিএ-এর গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দুটি ড্রেজার দিয়ে খননকাজ শুরু করলেও কয়েকদিন আগে বড় ড্রেজারটি তুলে নিয়ে যাওয়ায় কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এদিকে খনন কাজে নিয়োজিত ড্রেজারে গিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

ড্রেজারটির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত শ্রমিক সানাউল দেওয়ানসহ অন্যরা জানান, দুই কর্মকর্তা ৪-৫ দিন আগে এসেছিলেন, কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তারা চলে গেছেন। এছাড়া এক মাসে তারা দেড় কিলোমিটার নদী খনন করতে পেরেছেন বলে জানালেও নদীবন্দর পর্যন্ত খননে কতদিন লাগবে তা বলতে পারছেন না।

ফরিদপুর চেম্বর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নদীর খনন কাজটি দ্রুত করতে পারলে এই বন্দরটি প্রাণ ফিরে পাবে। এতে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা আগের মতো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারবেন। পাশাপাশি বন্দরকে কেন্দ্র করে হয়েক হাজার পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি