শীতকালীন অধিবেশনে পাস হচ্ছে শ্রম আইন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

শ্রম আইন (সংশোধন) ও ইপিজেড শ্রম আইন সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে পাস হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘শীতকালীন চলতি অধিবেশনে এ দুটি আইন পাস হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। আগামী গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে আইন দুটি সংসদে তোলা হবে।’

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে তিনি এসব কথা বলেন। জেন ল্যামবার্টের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ইইউ প্রতিনিধি দল শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দল প্রতিমন্ত্রীর কাছে শ্রম আইন (সংশোধন) ও ইপিজেড শ্রম আইনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী তাদের এসব কথা বলেন।

পরে মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায় বিচার পাওয়ার সুবিধার্থে সিলেট ও রংপুরে আরও দুটি শ্রম আদালত করা হচ্ছে বলে আমরা ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছি। এছাড়া ঢাকায় তিনটি শ্রম আদালতের মধ্যে একটি রেখে বাকি দুটি নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী অথবা গাজীপুরে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে আমাদের।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইইউ সংসদীয় প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছি, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে সাত শতাধিক এবং অন্যান্য কোম্পানি মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৮৬টি ট্রেড ইউনিয়ন আছে। বাংলাদেশের এই ট্রেড ইউনিয়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধি দল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগে আইএলওতে শ্রম আইনের খসড়া পাঠিয়েছিলাম। গত ডিসেম্বরে সংস্থাটি খসড়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে।’ আইএলও তাদের পর্যবেক্ষণে কী বলেছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইন চায়। কিন্তু এটি কি সম্ভব? বাস্তবতার নিরিখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা আইএলও কে জানিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের মূল্য ইউরোপীয় স্টান্ডার্ড অনুযায়ী দেওয়া হয় না। তাই আমরাও পণ্যে মূল্য ইউরোপীয় স্টান্ডার্ড অনুযায়ী দেওয়ার কথা জানিয়েছি।’ সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান উপস্থিত ছিলেন।