‘বর্তমান বিশ্বের চাহিদা মেনে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে’

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বর্তমান বিশ্বের চাহিদা ও প্রয়োজন মেনে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর এবং হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। এজন্য মাথায় রাখতে হবে বর্তমানের প্রয়োজনের সঙ্গে আগামীর প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি (জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল) সম্মেলন কক্ষে মিট দ্যা প্রেসে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ব্যাংক ঋণে শিল্প-কারখানা করাকে নিরুৎসাহিত করি।

ব্যাংকিং খাতের ঋণ অনিয়মবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প কারখানা করাকে আমি নিরুৎসাহিত করি। চীনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প-কারখানা করার নজির কম। অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজার আদর্শ বিকল্প হতে পারে। তবে পুঁজিবাজারে যাওয়ার আগে এর সম্পর্কে পড়াশোনা ও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে টাকা পাচার করে বিদেশে ব্যবসা করেন, তারা যখন বুঝবেন দেশে ব্যবসা করাই লাভজনক তখন আর বিদেশে পাচার করবেন না। বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় জায়গা।

তিনি বলেন, সম্প্রতি আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) এক রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় এখন বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান বাংলাদেশ। অচিরেই বাংলাদেশ হবে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক বাজার। মন্ত্রী আরো বলেন, শুধু বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো অভাব হবে না। এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি শুরু হলে সেই সমস্যা থাকবে না। সম্প্রতি ভোলায় দুটি নতুন গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে, যা নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহারের অর্জন। আমাদের বর্তমান মজুদ আছে ২৭ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস, যা বর্তমান ধারায় ব্যবহৃত হতে থাকলে আগামী ১৪ বছরে শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এ নতুন দুটি গ্যাস ফিল্ড যুক্ত হওয়াতে মজুদ বাড়বে এক দশমিক পাঁচ টিসিএফ গ্যাস।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে দেশে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর ৩৭ লাখ কর্মসংস্থান হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বিদেশে গেছে। দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১৪ লাখ। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রত্যেক গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেকে বলেন আয় বৈষম্য বেশি। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। এমনকি অনেক উপরে অর্থাৎ ৩৭ নম্বরে এসেছে।

‘আমরা এখন প্রকল্প নিচ্ছি গ্রাম শহর সব মিলিয়ে, হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। আসছে মার্চেই আমরা এলডিসি থেকে বের হওয়ার জন্য যে তিনটি কম্পোনেন্ট রয়েছে তা আমরা একই সঙ্গে অর্জন করব। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যারা একই সঙ্গে তিনটি কম্পোনেন্ট অর্জন করে এলডিসি থেকে বের হয়ে যাবে। বাংলাদেশ হবে এয়িশা অঞ্চলে পঞ্চম টাইগার-’ বলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মন্ত্রী আরো জানান, আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে সাড়ে আট শতাংশ। প্রবাসী আয় বেড়েছে। পুঁজিবাজার ইনডেক্স ছয় হাজার ১০০ এর উপরে। গড় লেনদেন একদিনে ৭৭৫ কোটি টাকা। তাই বলা যায়, পুঁজিবাজার অনেক বেশি ভাইব্রেন্ট। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক ভালো। আমরা যে চীনের কাছ থেকে ঋণ নেই। তাদের ঋণ চায়নার মোট জিডিপির তুলনায় দ্বিগুণ। সেখানে আমাদের ঋণ নেয়ার হার অনেক কম।

দেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমছে। অর্থাৎ আগে পরিবারের একজন আয় করলে অন্যসব সদস্য তার উপর নির্ভর করতো। এখন এরকম নির্ভরতা কমেছে। রেমিটেন্সের দিক থেকে সারা বিশ্বে আমরা নবম স্থানে রয়েছি। এনইসি সম্মেলন কক্ষে মিট দ্যা প্রেসে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, আইএমইডির (পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) সচিব মফিজুল ইসলাম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ, বিআইডিএসের (বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান) মহাপরিচালক কে এস মুর্শিদ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক আমির হোসেন।