নির্বাচনকালিন আক্রমণ রোধে বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি সম্প্রতি হ্যাকিং ও সাইবার হামলা ঠেকাতে বড় অংকের বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে উপহাস ও গত বারের মতো সফল হওয়ার আনন্দ পাওয়ার সুযোগ দিতে পারি না।’ এক সংবাদসম্মেলনে ডেমোক্র্যাট নেতা আরও বলেন, ‘তাদের (রাশিয়া) উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে হেয় প্রতিপন্ন করা।’

২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়া হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পারে, এমন আশঙ্কার মুখে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

এর আগেও অবশ্য অনেকগুলো বিল উত্থাপিত হয়েছে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে। এদের কয়েকটিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়পক্ষের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেগুলো আইনে পরিণত হয়নি। এ বিষয়ে এ পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বেশি পরিণত প্রস্তাব এটি বলে জানা যায়। কিন্তু এর পক্ষে রিপাবলিকানদের কোনও সমর্থনকারী নেই। ফলে আগেরগুলোর মতো এটিরও একি ফলাফল হতে পারে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হন। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া আবারও একই চেষ্টা করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা রাশিয়ার লক্ষ্য। দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) প্রধান ড্যান কোটস দাবি করেছেন, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে এরই মধ্যে আলামত পেয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে লক্ষ্য করে রাশিয়া অগ্রসর হচ্ছে। খোলাখুলি বলছি, যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত।’

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, রাশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিদেশি শক্তিও দেশটির নির্বাচনের সময়ে হ্যাকিং আক্রমণসহ অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করতে পারে।