‘তোমরা কাফের, দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে হবে, জিহাদ করতে হবে’

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আটক নারীকে ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগে বাংলাদেশে ঢাকার বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে তার বোনের দ্বারা একই কায়দায় হামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

আসমাউল হুসনা সুমনা (২২) নামে ওই তরুণীকে সোমবার মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমনা ‘নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য’ বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্নে একজন ব্যক্তিকে ছুরিরকাহত করার অভিযোগে বাংলাদেশি মোমেনা সোমাকে (২৪) অস্ট্রেলিয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সোমার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিতে বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা রোববার তাদের পূর্ব কাজীপাড়ার বাসায় গিয়েছিলেন। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, তারা সোমার বাবা মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় সুমনার হামলার শিকার হন।

“সব কিছুই ঠিক ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের ফ্লাটে অবস্থান শেষে ফেরার সময় সুমনা চাকু নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। ‘আল্লাহু আকবর’ বলে সে এক সহকারী কমিশনারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।”

আহত সহকারী কমিশনারকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কাফরুল থানায় সুমনার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, মনিরুজ্জামান অস্ট্রেলিয়ায় আটক তার মেয়ের বিষয়ে সব তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। কিন্তু সুমনার আচরণ ছিল ‘বেশ উগ্র’।

“কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা চলে আসার সময় মনিরুজ্জামানকে বলে আসেন, সুমনাকে নিয়ে তিনি যেন মঙ্গলবার সকালে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন। তখনই হামলা চালায় সুমনা। তাকে চাকুসহ ধরে ফেলা হলে সে চিৎকার করতে করতে বলে, ‘তোমরা কাফের, দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে হবে, প্রয়োজনে জিহাদ করতে হবে’।”

সুমনার কাছ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। সুমনাকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে করা আবেদনে উপ কমিশনার সাইফুল বলেন, তার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তার অর্থের উৎস কী, তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত মনিরুজ্জামান স্ত্রী এবং তার ছোট মেয়ে সুমনাকে নিয়ে ওই বাসায় থাকেন। তার বড় মেয়ে সোমা। সুমনা ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করার পর মিরপুরের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এইচএসসিতে পাশ করতে না পারায় ছয় মাসের জেনারেল এডুকেশন কোর্স (জিইডি) করে গত বছর ইউডাতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সুমনার বড় বোন সোমা বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল মাস্টারমাইন্ডে পড়াশোনার পর নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক করেন। পরে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।