‘বসন্তকে স্বাগত জানাতে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ’

‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত।’ তাই যদি না হতো, তবে কেন এতো আয়োজন? প্রকৃতিতে বসন্ত এসে গেছে। তাকে বরণ করে নিতে আগ্রহের একটুও কমতি নেই নগরবাসীর। তাই আজ মঙ্গলবার পয়লা ফাল্গুনে তরুণ প্রাণ মিলেছে প্রাণের উৎসবে।

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্রসঙ্গীতে যত আছে,
হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে
বনের কুসুমগুলি ঘিরে। আকাশে মেলিয়া আঁখি
তবুও ফুটেছে জবা,—দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,
তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্ত পথিক।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও বসন্ত বরণের উৎসব হয়েছে ইউডা চারুকলায়। হলুদ শাড়ি, রঙিন পাঞ্জাবি আর ফুলের মালা পরে ফাগুনের প্রথম দিনকে স্বাগত জানান তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ। প্রকৃতির পাশপাশি ফাগুনের রঙ লেগেছে সবার মনে। বড়দের সঙ্গে শিশুরাও এসেছে উৎসবের রঙ মাখতে।

বসন্ত বরণে আসা নারী পুরুষ, আবাল বৃদ্ধাদের পোশাকেও ছিল বাসন্তী সাজ। পুরুষরা হলুদ পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরেছেন। নারীদের পরণে ছিল বাসন্তী রঙের হলুদ শাড়ি, আর নিজ খোঁপায় গুঁজেছেন হলুদ গাঁদা কিংবা লাল গোলাপ। কারও বা কপালে টিপের সঙ্গে মাথায় ছিল নানা রকমের ফুলে জড়ানো টায়রা।

'বসন্তকে স্বাগত জানাতে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ'

সকালে সারেঙ্গি বাদন ও শাস্ত্রীয় সংগীতে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর একে একে পরিবেশন করা হয়, গান, আবৃত্তি ও নৃত্য। এতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার মর্মর শব্দ আর নানা রঙের স্নিগ্ধতা নাগরিক জীবনে বাসন্তী বার্তা। ইট-কাঠের ঘেরাটোপে পহেলা ফাল্গুন যেনো রঙের ছটা।