খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ডিভিশনের নির্দেশ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ডিভিশনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দিতে জেল কোডের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। 

এর আগে রোববার খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতের জারিকারক আনিসকে সঙ্গে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষর কাছে আদালতের এই আদেশ কারা কর্তৃপক্ষকে পৌঁছে দেন। এ সময় সানাউল্লার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, জিয়া উদ্দিন জিয়া ও এম হেলাল উদ্দিন হেলাল।

দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখাশোনার জন্য একজন পরিচারিকা (সেবিকা) চেয়ে রায়ের দিনেই আবেদন করেন তার আইনজীবী। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান সেবিকা ফাতেমার বিষয়ে জেল কোডের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন।

তবে, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাশকতার ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন,  খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিন পাওয়ার সঙ্গে অন্য মামলায়ও জামিন মিললে তার কারামুক্তি সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমান সরকার আদালত ও পুলিশ ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে আরেকটিএকতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আর সেজন্যই এসব মিথ্যা মামলা ও জেল জুলুম চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের নাশকতার ঘটনায় কুমিল্লায় দায়ের করা তিনটি মামলায় বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জামিন নিয়েছেন। তবে খালেদা জিয়া এসব মামলায় জামিন আবেদন করেন নি।

এর একটি মামলায় আদালত খালেদা জিয়াসহ অনুপস্থিত ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে অদালত।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে আরও ৩৬টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে এসব মামলার মধ্যে ১১টি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। কিছু মামলা রুজু হবার পর আদালতের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কয়েকটি মামলা চার্জ গঠনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।