পানির দামে ইলিশ বিক্রি, তবুও ক্রেতাহীন মাছবাজার

ইলিশে একাকার খুলনার বাজার। সাগর উপকূলের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এতো ইলিশ এবার ধরা পড়ছে যে মৌসুমকেও যেন হার মানিয়েছে! ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়া এসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অনেকটা পানির দামে। দাম কম হলেও বাজারে ইলিশের ক্রেতা নেই এমন অভিযোগ বিক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা, মজুদ ও বাজারজাত করার নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। যার কারণে নদী ও সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে জেলে, পাইকার, বিক্রেতা সবাই খুশি। তবে সে অনুযায়ী ক্রেতা মিলছে না বাজারে।

কেন ক্রেতা মিলছে না এ বিষয়ে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারি মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী আবু মুসা বলেন, শীত মৌসুমের শেষভাগে এসে হঠাৎ রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় জেলেরা খুশিতে আত্মহারা। তারা যে পরিমাণ মাছ আড়তে আনছেন সে পরিমাণ দাম পাচ্ছেন না। অনেকটা পানির দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

শীতের সময় ইলিশের স্বাদ কম থাকে। এছাড়া দাম যে এত কম সাধারণ ক্রেতারা অনেকেই তা জানেন না যে কারণে বিক্রি কম। তিনি জানান, ৫০০ গ্রাম ওজনের নদীর ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। যা ইলিশের ভরা মৌসুমে ছিলো ৬০০-৬৫০ টাকা। আর একই সাইজের সাগরের ইলিশ এখন ৪০০ টাকা। ১ কেজি কিংবা ১২০০-১২৫০ গ্রাম ওজনের নদীর ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকায়, সাগরের ৭০০-৮০০ টাকায়। যা মৌসুমে ছিলো ১৫০০টাকা।

এ আড়তে সমুদ্র ছাড়া নদীর মাছ আসে বরিশাল, চরদোয়ানী ও পাথরঘাটা থেকে। আর এখান থেকেই খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাট-বাজারে ইলিশ চলে যায়। এস বেঙ্গল ফিসের প্রোপ্রাইটর মো. লিটন বলেন, জাটকা নিধনে সরকার কড়াকড়ি করায় অসময়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

শীতে ইলিশের স্বাদ কম হওয়ায় চাহিদা কম। তিনি বলেন, ইলিশের মোকাম, মাছঘাট ও স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশে ভরপুর হয়ে উঠেছে। দাম কম হলেও ক্রেতা নেই।