‘খালেদাকে সাধারণ বন্দির মতই রাখা হয়েছে’

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা না থাকায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাধারণ বন্দির মতই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন। খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিসন না দেয়ার বিষয়ে বিএনপির অভিযোগের পর রবিবার কারা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান আইজি প্রিজন।

গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামাজিক মর্যাদার বিবেচনাতেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়াকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দেয়া হয়নি।

এই প্রেক্ষিতে ব্রিফিংয়ে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা (ডিভিশন) পাওয়ার যে দুটি ক্রাইটেরিয়া দেওয়া রয়েছে, তার কোনোটিতেই খালেদা জিয়া পড়েন না। ‘কারাবিধির ৬১৭ উপবিধিতে বলা হয়েছে শুধু সাবেক রাষ্ট্রপতির কথা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কথা সেখানে নেই।’

কারাবিধি অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সংসদ সদস্য, দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পাবেন। তবে বিএনপি সংসদে প্রতিনিধিত্ব না করায় খালেদা জিয়াকে সেভাবেও বিবেচনা করা হয়নি বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ইফতেখার উদ্দীন বলেন, ‘যেহেতু ৮ তারিখের রায়ের সাথে রেকমেন্ডেশন আসেনি, তাই তাকে জেল কোড অনুযায়ী যেটা আছে, আপাতত সে অনুযায়ী সাধারণ বন্দি হিসেবেই রাখা হয়েছে।’

অবশ্য রবিবার বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এক আবেদনের পর আদালতে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে ইফতেখার উদ্দীন বলেন, ‘আইনজীবীরা একটা দরখাস্ত দিয়েছন। আমি সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। টিভিতে দেখেছি একটা অর্ডার হয়েছে কোর্ট থেকে। সেটা হাতে পেলে তখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্খা নেব।’

খালেদা জিয়াকে কয়েদীর পোশাকে রাখা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী কয়েদীদের কারাগারের পোশাকই পড়ার কথা।’ অন্য এক প্রশ্নে ইফতেখার জানান, খালেদা জিয়াকে যেহেতু সাধারণ বন্দির মতই রাখা হয়েছে, সেহেতু তাকে সে অনুযায়ীই খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে আত্মীয়রা যে খাবার দিয়েছেন, তা তাকে দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক জানান, ফাতেমা নামে কারাগারে নেই। পুলিশ একজনকে দিয়ে গেলেও এক ঘণ্টা পর তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক একজন ডাক্তার ও একজন নার্স রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয় ব্রিফিংয়ে। বলা হয়, প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হবে। খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত ও নির্জন কারাগারে রাখার নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে ইফতেখার উদ্দীন বলেন, সরকার এখনও ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেনি. তাই এটাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আর এই কারাগারে রাখাটা খালেদা জিয়ার জন্যই সুবিধাজনক বলেও মন্তব্য করেন কারা মহাপরিদর্শক। বলেন, ‘কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রাখলে এই বয়সে প্রিজন ভ্যানে করে আনা নেওয়ায় উনার অসুবিধা হত। তাই বয়স ও শারীরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে এখানে রাখা হয়েছে।’

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নিচতলার একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। কক্ষটি আগে একজন কারা কর্মকর্তা ব্যবহার করতেন। পরে তাকে দোতলার অন একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে। এই কক্ষটি এক সময় কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

অবশ্য খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা না পেলেও তাকে ডিভিশনের সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ডিভিশন পেলে এর বাইরে আর কী সুবিধা পাবেন-উল্টো প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, খালেদা জিয়া যেহেতু সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সে দিকটি খেয়াল করে এরই মধ্যে আনঅফিসিয়ালি অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।