‘আইনের কারণে নির্বাচনের বাইরে থাকলে কিছু করার নেই’

আইনর ঊর্ধ্বে যে কেউ নয়, দুর্নীতির দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডেই তা প্রমাণ হয়েছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মন্ত্রী বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন সকলের ঊর্ধ্বে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। এটা পরিষ্কার কথা।’ রবিবার রাজধানীতে বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটে বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আইনমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের করা একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর তাকে বকশিবাজারে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন আইনের মতো চলবে। কোনো হুমকি ধামকিতে আইনের কোনো ব্যতায় ঘটবে না।’

‘খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, এখন প্রক্রিয়াগুলো হচ্ছে তিনি আপিল করবেন, তারা যদি মনে করে তারা জামিনের জন্য দরখাস্ত করবেন, তাহলে তারা জামিনের জন্য দরখাস্ত করবেন। হাইকোর্ট যদি মনে করে, স্বাধীন বিচার বিভাগ যদি মনে করে সেটার ব্যপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেটা ব্যপারে আমাদের কিছু করণীয় নেই।’

বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার আদালতকে ব্যবহার করে এই সাজা দিয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছেন বিএনপি নেতা এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এত ভীত না যে কাউকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন করতে হবে। সেই ইচ্ছা আমাদের নেই। বাংলাদেশে সংবিধানে নির্বাচন করার একটা বিধান আছে। সেখানে যে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় সেই ওয়েলকাম।’ ‘কাউকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাই না। তবে আইনের কারণে কেউ যদি বাইরে থাকে এখানে আমাদের কিছু করার নাই।’

'আইনের কারণে নির্বাচনের বাইরে থাকলে কিছু করার নেই'২

সংবিধান অনুযায়ী ফৌজদারী মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হলে দণ্ড শেষ হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়া যায় না। তবে বিচারিক আদালতের রায়ের পর বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না-এই বিতর্কের মীমাংসা এখনও হয়নি। ফলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়েও দুটি মত আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আগে এ বিষয়ে আমি পরিস্কার করে বলেছি, সুপ্রিম কোর্টে পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দুইটি রায় আছে। দুইটা দুই রকম। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সুপ্রিম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশন। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নাই।’

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদও জানিয়েছিলেন, বিচারিক আদালতে দণ্ড হলে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন কি না-এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের দুই ধরনের সিদ্ধান্তই আছে। তবে তিনি মনে করেন, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগের রায়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়া যায়।