খালেদার রায় ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ৫ মামলা দায়ের

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন গুলশানের বাসা থেকে আদালত পর্যন্ত যাবার পথে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহবাগ থানায় ২টি ও রমনা থানায় ৩টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। পৃথক থানায় দায়ের করা এসব মামলায় ৩৬৮ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নামও রয়েছে মামলায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেককেই মামলার আসামি করা হয়েছে।

রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা, মারধর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেছে। রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এতে ১৬০ জন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি তদন্ত জাফর আলী বিশ্বাস জানান, একটি মামলায় ১০০ জন, অপর মামলায় ১০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, মারধর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তা জানাননি তিনি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিন গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে বকশীবাজারের বিশেষ আদালতের পথে বেলা পৌনে ১২টায় রওনা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে দলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে যোগ দেন। গাড়িবহর মগবাজার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে যুক্ত হন বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী।

দুপুর ১২টার কিছুক্ষণ পর গাড়িবহর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের মোড় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইট-পাটকেলের আঘাতে এ সময় কয়েকজন আহত হন।

এরপর কাকরাইল মোড় থেকে মৎস্য ভবন মোড়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর আসার আগেই বহরের অগ্রবর্তী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পাল্টা জবাবে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় পিঁছু হটে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখান থেকে একজনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মৎস্য ভবন মোড় পার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এ সময় সেখান থেকে বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এদিকে কাকরাইল মোড়ে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

দুপুর ১টার দিকে পল্টন মোড় থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে কদম ফোয়ারার দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীরা আশপাশের গলিতে ঢুকে পড়েন, কেউ কেউ পল্টনের দিকে চলে যানি। এ সময় চারপাশে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। পুলিশ প্রেস ক্লাবের উল্টোদিকে বিএমএ ভবনের পূর্বপাশের গলির গেট বন্ধ করে দেয়।