‘রায়ে সরকারের হাত থাকলে দশ বছর পর রায় হতো না’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সরকারের হাত থাকলে এই সরকারের প্রথম মেয়াদেই রায় হতো, দশ বছর পর হতো না। আমরা যে পরের মেয়াদে ক্ষমতায় আসবো সে গ্যারান্টিও তো ছিল না। সুতরাং এই রায় আদালতের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে।’ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাইঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত রায় পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রায় আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির বিষয় নয়, এটা আদালতের বিষয়। এ রায় জনগণের প্রত্যাশিত রায়। দেশের ইতিহাসে তা মাইলফলক হয়ে থাকবে এ কারণে যে, এদেশের মানুষ বোঝে নেবে আইন সবার জন্য সমান। অন্যায় করে কেউ পার পায় না, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না।’

‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাদের নেতাকর্মীরা যে কেঁদেছেন তা শুধু তাদের স্বজন ও সম্পদের জন্য। এদেশের মানুষের প্রতি তাদের কান্না আসে না। যদি আসতো তাহলে তারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও করে অসংখ্য মানুষকে পোড়াত না। তাদের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে দেশের মানুষ পুড়েছে, দেশের আকাশ-বাতাস কেঁদেছে কিন্তু তাদের চোখে কোনো কান্না দেখিনি’- বলেন হাছান মাহমুদ।

লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার প্রসঙ্গে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু দুর্নীতিবাজের দলই নয়, এরা দুস্কৃতিকারীরও দল। বিদেশে (লন্ডন) দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে বিএনপি। সেখানে জাতীর পিতার ছবি পুড়িয়েছে। তারা মনেই করে না যে, একটি দেশের দূতাবাস শুধু সরকারের নয় দেশের সম্পদ। অর্থাৎ বিএনপি শুধু দুর্নীতিবাজের দলই নয় এরা দুস্কৃতিকারীর দলও।’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের সাত ধারা সংশোধন প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের দলে ঠাঁই দিতেই গঠনতন্ত্রে সংশোধন এনেছে। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানকে। বিএনপি শুধু দুস্কৃতিকারীর দলই না, গণবিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের প্লাটফর্ম।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টি (জেপি) অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, রোকন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।