খালেদার সাজায় লজ্জা পেলেন খাদ্যমন্ত্রী

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় ‘লজ্জা’ পেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির দায়ে সাজা হওয়া সবার জন্যই লজ্জাজনক বলেও মনে করেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে কামরুল এ কথা বলেন।

এর আগের দিন দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ এসেছে একটি আদালত থেকে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে। দলটির দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই রায় দেয়া হয়েছে আদালতকে প্রভাবিত হবে। এই রায়ের পর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।

তবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিচারক স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। এই রায় রাজনীতিবিদদের জন্য লজ্জাজনক মন্তব্য করে কামরুল বলেন, ‘এই দেশে দুর্নীতির দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলে গিয়েছে। একজন রাজনীতির কর্মী হিসেবে এটা ভাবতে ভাবতে আমার লজ্জা লাগে।’

‘বিএনপির লজ্জা না লাগতে পারে, তবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়া দেখে সব রাজনৈতিক কর্মীকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানাই আমি।’ আলেমদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। কওমি মাদ্রাসার কেউ জঙ্গিবাদে জড়িত নয় মন্তব্য করে কামরুল বলেন, ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতরাই এখন জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এবং ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির নেতারাও এ সময় বক্তব্য রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার পরিণতি দেখে শিক্ষা নিতে দুর্নীতিবাজদের প্রতি অনুরোধ করেন। বলেন, যতই প্রভাবশালী হোক, সরকার সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।