‘সারা বাংলাদেশে খোঁজ নিলাম, কোথাও কোনো আতঙ্ক নেই’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে দেশে কোনো উদ্বেগ বা আতঙ্ক নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পর সচিবালয়ে দেয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই দেশে উত্তেজনা শুরু হয়। খালেদা জিয়ার সাজা হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল বিএনপি। আর সরকারি দল আওয়ামী লীগ জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে সারা দেশেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছিল। রায়ের দিন রাজধানীতে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। গোটা দিনই রাজপথ ছিল অস্বাভাবিক রকমের ফাঁকা।

তবে খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর দেশে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আর বিএনপি জানিয়েছে, খালেদা জিয়া বুধবার রাতে নেতাদেরকে হটকারিতা করতে নিষেধ করেছেন। আর বিএনপি শুক্র এবং শনিবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো জায়গায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টাও কেউ নেয়নি।’ ‘আমি তো সারা বাংলাদেশে খোঁজ নিলাম, কোনো আতঙ্ক নাই, কোনো জায়গায় কোনো প্রতিবাদ বা কিছুই হয়নাই। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জেলা খুব স্বাভাবিক অবস্থায় চলছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রায় নিয়ে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী যে কাজ করার দরকার সেটাই করবে। তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে, যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।’ রায়ের প্রতিবাদে বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেয়া হবে কি না-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করিনি। নির্বাচন কমিশনও নিষিদ্ধ করেনি। তাই যে কোনো দল যে কোন কর্মসূচি দিতে পারে। এটা স্বাধীন দেশ। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লক্ষ্য করবে, কোনো বিশৃঙ্খলা করে কি না। করলে অবশ্যই বাঁধা দেয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলন করার আগেই বকশিবাজারের বিশেষ জজ আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

খালেদা জিয়াকে স্থায়ীভাবে সেখানেই রাখা হবে কি না, বা খালেদা জিয়াকে এখান থেকে পরে অন্যত্র নেয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না-এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কিছু পার্মানেন্ট না, যে কোনো সময় যে কোনো ডিজিসন হতে পারে। আমরা এখন তাকে এখানে রাখছি, পরে অন্য পরিস্থিতি হলে তাকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিতে পারি।’

রায়ের আগে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কেউ দাঁড়িয়ে মিছিল করতে পারবে না। কিন্তু সরকার দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা দলে দলে মিছিল করেছে। এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা হয়তো এটাও লক্ষ্য করেছেন, বেগম জিয়ার গাড়িবহরের সম্মুখে তাদের নেতাকর্মীরাও মিছিলে যোগ দিয়েছিল। এটাই স্বাভাবিক। যখন কোনো দল কিছু একটা ব্যবস্থা নেন তখন অন্যদলও একটা প্রতিক্রিয়া দেখান। এটা আমার মনে হয় বিএনপি আগে করেছে আর আওয়ামী লীগ এটা তা দেখেই করেছে।