শুক্রবার বিক্ষোভ ও শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ

আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ এবং শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটির মহাসচিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রায় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া রায়ের প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ করবে তার দল। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সমাবেশ করবে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীর নির্দেশে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি করবো।দেশনেত্রীর শেষ কথা, ধৈর্য ধরে জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে হবে। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রতিবাদ করতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে।’

তিনি আরও বললেন, ‘দেশনেত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, যদি রায় আপনার বিপক্ষে যায়, আমরা কী ধরনের কর্মূসচি দেবো। তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনও ধরনের হঠকারী আর সহিংস কর্মসূচি দেওয়া যাবে না। তাই আবারও বলছি, শান্তি চাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশনেত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। যে নেত্রী কারাগারে থাকা অবস্থায় সেনা সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাকে সাজা দেওয়া হলো অন্যায়ভাবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা করবে না ইতিহাস।’

মির্জা ফখরুল জানান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও চট্টগ্রামের শাহাদাতসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাড়ে তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। আমরা ক্ষেভের সঙ্গে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ বরাবরই সহিংসতা তৈরি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে পুলিশের সহায়তায় চড়াও হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি, এই মামলায় খালেদা জিয়ার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। কোনোভাবেই তিনি সম্পৃক্ত নন। কোনও কাগজে তার নাম নেই। কোনও ব্যাংক অ্যাকউন্টেও নেই তার নাম। তবুও দুর্ভাগ্যজনক হলেও তাকে শাস্তি দেওয়া হলো। এটি সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।’