‘খালেদা জিয়ার গোপন বিচার হয়েছে’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গোপন বিচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর এবং অন্য পাঁচ আসামির ১০ বছরের সাজার প্রতিক্রিয়ায় দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন মওদুদ। এ সময় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে বলা আছে, বিচার হতে হবে ইন পাবলিক। উন্মুক্ত বিচার হতে হবে। কিন্তু এই বিচার ইন পাবলিক হয় নাই।’ নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মওদুদ বলেন, ‘অনেক আইনজীবীকে এই ট্রায়ালের সময় যেতে দেয়া হয় নাই। সাধারণ মানুষ তো তো দূরের কথা। একজনকেও সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। কাজেই এটাকে আমরা কখনও পাবলিক ট্রায়াল বলে স্বীকার করব না।’

মামলার রায় ঘোষণার দিন আজ পুরো শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়। নাশকতার আশঙ্কায় যান চলাচলও সীমিত করা হয়। খালেদা জিয়ার তালিকাভুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সাংবাদিকদের আদালতে ঢুকতে দেয়া হলেও পরিচয় নিশ্চিত করেই যেতে দেয়া হয়েছে। এর সবই নিরাপত্তার খাতিরে করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা। মওদুদের দাবি সংবিধান ও মানবাধিকার লংঘন করে এই বিচার কায়েক হয়েছে।

‘আজকে এর প্রতিফলন আরও আরও বেশি হয়েছে। আজকে আপনাদেরকেও যেতে দেয়া হয়নি। আজকে গণমাধ্যমও যেতে পারেনি। একটা ক্যামেরা আজকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।’ ‘কেন? কেন পারবে না? এতদিন আপনাদেরকে দিল, আজকে দিল না কেন?’। ‘আজকে তো আমাদের অনেক আইনজীবীদেরকে ঢুকতে দেয়া হয়নি, পাবলিক তো দূরের কথা। আমাদের নিজেদেরই ঢুকতে অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। অনেক দূরে গাড়ি রেখে তারপর হেঁটে যেতে হয়েছে।’

‘অর্থাৎ আজকের দিনটাও প্রমাণ করে এই মামলাটা ইট ওয়াজ নট ইন পাবলিক ট্রায়াল্ এবং ইট ওয়াজ কনট্রারি টু দ্য প্রভিশনস অব দ্য কনস্টিটিউশন।’ এই মামলাটি জাল জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজ তৈরি করে করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা ফৌজদারী কার্যবিধির অধীনে ফ্রড বলে আনুষ্ঠানিক দরখাস্ত করেছি, নালিশ করেছি এবং বলেছি হাইকোর্টে এটা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটাতে রায় দেয়া ঠিক হবে না। কিন্তু তারা এটা করেছে।’ ‘মাননীয় বিচারক আজ শর্টওয়েতে রায়টা পড়লেন, তিনি এই ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।’ মওদুদ বলেন, ‘অন্যান্যদের ব্যাপারে তিনি (বিচারক) বলেছেন কেন শাস্তি দিচ্ছেন, কিন্তু বেগম জিয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। তিনি কোন কারণে দোষী সাব্যস্ত হলেন।’

‘আবার রীতি অনুযায়ী কোনো কাজে ক্রিমিনাল ইনটেনশন থাকতে হবে। যদি ক্রিমিনাল ইনটেনশন না থাকে তাহলে সেটা কখনও এই আইনে হতে পারে না। সেই বিষয়েও কোনো কিছু আমরা দেখিনি।’