সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন ফাঁস!

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো চেষ্টাতেই কাজ হচ্ছে না, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত কয়েক দিনের মত ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। বুধবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ২৪ মিনিটের মধ্যে একাধিক ফেসবুক গ্রুপে ‘খ’ সেট এর প্রশ্ন চলে আসে। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, ওই সেটেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আর সব প্রশ্ন মিলেও গেছে।

 

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র দুটি পরীক্ষারই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর রোববার প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়াও বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে করণীয় নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু সোমবার ইংরজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয় এবং ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু হয়। এমনকি প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত কিছু গ্রুপের নাম গণমাধ্যমে আসায় বিষয়টিকে কৃতিত্ব হিসেবে দেখিয়ে নতুন উদ্যমে প্রচার চালাতে দেখা যায় তাদের।

বুধবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার সকালে ৯টা ২০ মিনিটে ‘English Suggestion for SSC and HSC examinee’ নামে ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে ‘মো. ইমাজ উদ্দিন রিয়াদ’ এবং ‘SSc English 2nd 2018’ নামের গ্রুপে ‘Ridoy Khan’ নামের আইডি থেকে ‘খ’ সেটের প্রশ্নের দুটি ইমেজ পাঠানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন ফাঁস!

এছাড়া ‘PSC. JSC. SSc. HSC Exam Helping Center’ নামের গ্রুপে ‘আমি আর তুমি’ ও ‘রেজাউল করিম’, ‘Rafsan Rony’ ও ‘ShopnoHin Balok’ নামের আইডি থেকে পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে একই প্রশ্নের ইমেজ দিয়ে বলা হয়, ‘100% common dissi next question ar jonno inbox koro’।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের খবর আসার পরপরই বিপক্ষ থেকে ইমেইলে বিষয়টি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার তখন বলেন, বিষয়টি তারা দেখবেন।

পরীক্ষা শেষে আবারও যোগাযোগ করা হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, “যে সময় প্রশ্ন পেয়েছেন আপনারা, ওই সময়ে তো বাচ্চারা ঢুকে যায় হলে। তার মানে তারা তো প্রশ্ন পায়নি।

“তারপরও আপনি যে তথ্য দিয়েছেন সেগুলো আমাদের যে সংস্থাগুলো কাজ করছে, বিটিআরসি ও আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার ক্রাইম ইউনিট, তাদেরকে আমি মেইল করে দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে। কারা ওই সময়ে এসব আপলোড করছে তা অবশ্যই বের হবে। আমার মনে হয় অচিরেই আপনারা দেখতে পাবেন কারা এরা।”