রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরা যেন স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বেরসে। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারে উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বের বড় উদ্বাস্তু শিবির কুতুপালংয়ে ডি–৪ ও ডি–৫ ব্লক পরিদর্শন করেন।

সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। তাদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তি কার্যকরে তার দেশের সহযোগিতা বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।

সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষের জন্য আশ্রয় এবং অতি জরুরি সেবা সরবরাহ করা বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বিরাট চাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

এত মানুষকে আসতে দেওয়া এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য সুইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভরণ-পোষণের জন্য সুইজারল্যান্ড ত্রাণ সহায়তাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বেরসে। রোহিঙ্গাদের ভরণ–পোষণের জন্য সুইজারল্যান্ড ত্রাণ সহায়তাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট বেরসে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় সুইজারল্যান্ড ২০১৮ সালে ১২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক (১২.৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার) অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের কোনো পরিকল্পনা তার দেশের রয়েছে কি সাংবাদিকদের এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। এ সময় নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের পরিস্থিতি ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।