রায়ের আগেই রাজধানীতে র‍্যাবের টহল জোরদার

বিএনপি চেয়ারাপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার আগে থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষভাবে সতর্ক পুলিশও। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালতে ঘোষণা করা হবে বহুল আলোচিত রায়টি। গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কথার লড়াই চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির মধ্যে।

আবার ৩০ জানুয়ারি প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপির দুই জন নেতাকে ছিনতাইয়ের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। অভিযানে নামে পুলিশ, গ্রেপ্তার হন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। বিএনপির দাবি, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে এক হাজার একশরও বেশি।

এরই মধ্যে রায়ের দিন রাজধানীতে জমায়েত বা সভা সামবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও যদি খালেদা জিয়ার সাজা হয়, তাহলে বিএনপি সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখতে পারে বলে এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেই ধারণা আছে। আর সহিংসতা বা নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি যেমন আছে, তেমনি সহিংসতা করতে হলেও পূর্ব প্রস্তুতি প্রয়োজন-এমন ধারণা থেকেই এই হটল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানান, রায়ের দিন কোনো পক্ষে যেন সহিংসতা করতে না পারে, সে জন্যই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার থেকে বাহিনীটির অতিরিক্ত সদস্যদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এই সদস্যরা মোটরসাইকেল এবং গাড়িতে টহল শুরু করেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকিও বসানো হয়েছে। এছাড়া চলছে গোয়েন্দা নজরজারিও বাড়ানো হয়েছে।

র‍্যাব বলছে,  আপাতত বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে চাইছে তারা। সেই সঙ্গে কোনো প্রতিবাদী জমায়েত ঠেকাতেও নানা কৌশল নেয়া হয়েছে। এর আগে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সকর্তকতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করা সবগুলো বাহিনীকেই সতর্ক অবস্থানে থাকতে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সার্বিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাসহ সব জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় শহরগুলোর নেতাকর্মীদের গতিবিধি নজরদারির মধ্যে রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। রায়ের আগের দিন থেকেই আদালত এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর সব থানা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা নেয়া হবে।

মামলার রায়কে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হলে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে এরই মধ্যে। রায়ের দিন রাজশানীতে সভা-সমাবেশ বা জড়ো হতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, খালেদা জিয়ার সাজা হলে তার সমর্থকরা তৎক্ষণাৎ রাজপথে নেমে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা যানবাহনে ভাঙচুরসহ সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতামূলক হামলা চালাতে পারে। সুযোগ পেয়ে জামায়াত-শিবিরও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে ব্যাপক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ ও র‍্যাব জানিয়েছে, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ওপর ওপর নজরদারি চলছে। কারো বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টার আভাস পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার করতে শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) থেকেই র্যা বের টহল শুরু করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্নস্থানে বসেছে তল্লাশি চৌকি, সক্রিয় গোয়েন্দারাও।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় পুলিশের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় করেই কাজ করা হচ্ছে। ডিএমপিরও বিভিন্ন ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত সদস্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাজ করছে। তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর নজর রাখছে।

জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানীর নিরাপত্তায় কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাবেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।