ভারতের কঠিন চাপের মুখে মালদ্বীপ

মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ আহবান করার প্রেক্ষিতে চীন বলেছে দেশটির এধরনের কোনো সুযোগ নেই।

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়। এর ফলে এ অঞ্চলটি পিছিয়ে আছে। দিল্লি মালদ্বীপের পরিস্থিতির ওপর প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়। কারণ নতুন দিল্লি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রচেষ্টায় স্পর্শকাতর হস্তক্ষেপ করে অভ্যস্ত। এবং ভারত তা বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে মিলেই তা করে।

এর আগে ভারত বলেছিল তারা মালদ্বীপে বিশৃঙ্খলার দিকে নজর রাখছে এবং সতর্ক রয়েছে। কিন্তু চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস’এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে মালদ্বীপের মত একটি সার্বভৌম দেশে কোনো সংকট বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার অধিকার ভারতের নেই।

এছাড়া, মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড উদ্যোগ বা সিল্করুটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার পর ভারত তা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিল। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। গ্লোবাল টাইমস অভিযোগ করে বলছে, মালদ্বীপ ভারতের কঠিন চাপে রয়েছে। কিন্তু নতুন দিল্লির এধরনের হস্তক্ষেপের কোনো যুক্তি নেই। উল্লেখ্য ১৯৮৮ সালে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের আহবানে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীর নির্দেশে দেশটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংকট নিরসনে মালদ্বীপ সরকারের ভারত সরকারের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে এ বিবেচনায় দিল্লি সামরিক অভিযানের জন্যে এবারো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ভারতের নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজগুলো মালদ্বীপের উপকূল বরাবর অবস্থান নিয়েছে। মালদ্বীপে কর্মরত ভারতের নাগরিকদের সতর্ক এবং পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটি ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।