‘পরমাণু সমঝোতা, ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা নয়’

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশ ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা কিংবা প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কখনো কারো সঙ্গে আলোচনা করবে না।

তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা হচ্ছে সাতপক্ষের চুক্তি, এটা একটা আন্তর্জাতিক সমঝোতা যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট রুহানি এসব কথা বলেন।

ড. রুহানি বলেন, পরমাণু সমঝোতা একটা বলিষ্ঠ চুক্তি বলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও তা বাতিল করতে পারেন নি। প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুলভাবে বিশ্বাস করেন যে, এটা আমেরিকার ডেমোক্র্যাট দলের একটা চুক্তি। প্রকৃতপক্ষে এটা হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সই করা একটা চুক্তি যা দলমত নির্বিশেষে সবাই মানতে বাধ্য। এ চুক্তি লঙ্ঘন করার উদ্যোগ নিলে তা ওয়াশিংটনের জন্য দুর্নামের কারণ হবে।

আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্য পীড়াপিড়ি করছে এ বিষয়ে ইরান কী করবে- সংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, “নতুন করে আলোচনা করা কিংবা নতুন করে চুক্তি লেখা সম্ভব নয়। আমেরিকা, ইউরোপ বা অন্য যেকেউ হোক না কেন, কারো সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিনসহ যা প্রয়োজন আমরা তাই করব; আমরা নিজের শক্তি বাড়াতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করে নি; করবেও না। ইরান শুধুমাত্র প্রচলিত অস্ত্র তৈরি করবে যা প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না।