দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে চলছে গ্রেফতার অভিযান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিন ধরে এই অভিযান চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে বিএনপি ও তাদের জোটের দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই কয়েক দিনে প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।

গত ২৪ ঘণ্টায় জয়পুরহাটে ২০, চুয়াডাঙ্গায় ৩৯, ঝিনাইদহে ৪৬, বাগেরহাটে ৫০, লক্ষ্মীপুরে ২৮ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৪ বিরোধী নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। আবার অনেককে নতুন করে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এটা স্বাভাবিক অভিযান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই অভিযান চলছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলেও পুলিশ দাবি করেছে। ২০০৮ সালে দায়ের করা আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারে বিশেষ জজ আদালতে ঘোষণা করা হবে। গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কথার লড়াই চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির মধ্যে।

আবার ৩০ জানুয়ারি প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপির দুই নেতাকে ছিনতাইয়ের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। অভিযানে নামে পুলিশ, গ্রেপ্তার হন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। এরই মধ্যে রায়ের দিন রাজধানীতে জমায়েত বা সভা সামবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও যদি খালেদা জিয়ার সাজা হয়, তাহলে বিএনপি সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখতে পারে বলে এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেই ধারণা আছে।

এছাড়া, সহিংসতা বা নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি যেমন আছে, তেমনি সহিংসতা করতে হলেও পূর্ব প্রস্তুতি প্রয়োজন-এমন ধারণা থেকেই এই টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারও করছে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী।