মালদ্বীপের বিচারপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্টসহ সাতজন গ্রেপ্তার!

আদালত-সরকার দ্বন্দ্বের জেরে মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটির প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ সাঈদ, সাবেক প্রেসিডেন্টসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবিসির সংবাদদাতা অলিভিয়া ল্যাঙ জানিয়েছেন, মালদ্বীপে মানুষ ভীত-শঙ্কিত অবস্থায় আছে। রাত থেকে সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আদালতে যেসব বিচারপতি ছিলেন তারা সবাই সেখানে আটকে রয়েছেন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সোমবার রাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়ার পর ভোরের দিকে পুলিশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঢোকে।সেখান প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদের সঙ্গে আলী হামীদ নামে আরেকজন বিচারক এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হাসান সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। দেশটির বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুসনু আল সুদ বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে রেখেছে। এর ফলে বিচারকরা ভেতরে আটকা পড়েছেন। তাদেরকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম মুয়াজ আলিও জরুরি অবস্থা জারির খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে সোমবার থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট।

বিবিসি লিখেছে, তদন্ত কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। জরুরি অবস্থার মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় বিশেষ কোনো আইনি সুবিধাও তারা পাবেন না।

গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের ১২ এমপিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার করে কারাদণ্ড দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে রায় দিয়ে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেয়।

প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে অভিশংসনে ও গ্রেপ্তারে সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ রুখতেই এত কিছু হচ্ছে বলে ধারনা। এছাড়া আরেকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে চলমান আরো একটি মামলাকেও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিলো সুপ্রিম কোর্ট। হুট করে মালদ্বীপে জারি করা জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক সেক্রেটারি বরিস জনসন।