প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে গোয়েন্দারা এখনও অন্ধকারে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা তৎপরতার পরও পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না। একটি চক্র রীতিমত ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, সেটি স্বীকারই করতে চাচ্ছেন না। দু’একজন যাও স্বীকার করছেন। তারা এজন্য দায় চাপাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ওপর।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কয়েক কর্মকর্তা জানান, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে তারা এখনও অন্ধকারে রয়েছেন। তবে কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, সেটি তদন্তের সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের কৌশল নির্ধারণে তারা কাজ করছেন বলে জানান। চলমান এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পর থেকে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে প্রমাণসহ একাধিক প্রতিবেদন হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে পরিবর্তন ডটকমও একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেইজ, হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুরুর দিনেই বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্ন ফাঁস হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে হওয়া বাংলা দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজির প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে। সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শারমিন জাহান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমরা তেমন কোনো সুখবর দিতে পারছি না। কাজ চলছে। কিন্তু, কিভাবে, কারা প্রশ্ন ফাঁস করছেন, তাদের সম্পর্কে এখনো কোনো ক্লু আমরা উদ্ধার করতে পারিনি।’

সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বলছে, তাদের কাছে যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য বলা হয় শুধু সেগুলোই করেন। আগের বছর প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্ট তারা পেয়েছিলেন। তখন অনুসন্ধান করে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিলেন। এ বছর তাদের কাছে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে অনুসন্ধানের কোনো নির্দেশনা না থাকলেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পিবিআই কর্মকর্তা জানান, যারা ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করার কথা বলছেন, তাদের অনেকে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহেদুল খবির চৌধরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, কারা, কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস করছেন, তা জানতে আমরা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসি’র সহযোগিতা চেয়েছি। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেননি। কেন তারা এই চক্রটিকে ধরতে পারছে না, তা তারাই ভালো জানেন।’ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কাজ করেছি। সেখানে সফলতা সবাই দেখেছেন। এসএসসি নিয়ে এখনও কোনো কাজ করিনি। তবে নির্দেশনা পেলে কাজ শুরু করব। ইতোমধ্যে আমরা নিজেরা এ বিষয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছি।’

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন ছাত্রী রয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে দুপুর একটা এবং দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।