রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে আরও ১২ মিলিয়ন ফ্রাংক দেবে সুইজারল্যান্ড

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে আরও ১২ মিলিয়ন (১০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা) ফ্রাংক দেবে সুইজার‌ল্যান্ড। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে সুইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেই বারসেট এ কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুইজার‌ল্যান্ড বাংলাদেশের পাশেই আছে জানিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ যে মানবিক ভূমিকা পালন করছে, সেটাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে সুইজারল্যান্ড। এই সংকটের সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রশ্ন জড়িত। মানবতা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে এই সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে সুইজারল্যান্ড।’ এ সময় বারসেট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সুইজারল্যান্ড তাদের সাহায্যের হাত আরও বাড়িয়ে দেবে উল্লেখ করে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সুইজারল্যান্ড এর আগে ৮০ লাখ ফ্রাংক দিয়েছে। এ দফায় আমরা আরও ১২ মিলিয়ন ফ্রাংক দেবো বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের।’

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি। এই চু্ক্তির পর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তারা প্রত্যাবাসন শুরু করবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সফর আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংহত করবে বলে আশা করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকের আগে সুইস প্রেসিডেন্ট সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি নাগেশ্বর চাপা ফুলের একটি চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এরপর তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এরপর সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বারসেট। পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। বঙ্গভবনে সের সম্মানে রাষ্ট্রপতি হামিদের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দেবেন। এটাই কোনো সুইস প্রেসিডেন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর। ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জেট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে স্বাগত জানান।

সফরসূচি অনুযায়ী, ৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। সেখানে তাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনবেন সুইস প্রেসিডেন্ট।

৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে সক্রিয় সুইস ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া ওই দিনে ঢাকা আর্ট সামিট পরিদর্শনেও যাওয়ার কথা রয়েছে তার। ৯ ফেব্রুয়ারি তার স্বদেশ ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের রীতি অনুসারে গত ১ জানুয়ারি এক বছরের মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অ্যালেই বারসেট।